প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন বাড়াতে হবে: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ: 


নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, “নারীদের প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে, যাতে তারা প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে পারে এবং সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।” তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির শক্তি ব্যবহার করে নারী সমাজকে আরও আত্মনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে এবং সমাজে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পারে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় মহিলা সংস্থার যৌথ আয়োজনে “তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্প”-এর আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “গ্রামীণ ও তৃণমূল পর্যায়ের নারীরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে ঘরে বসে থাকলে চলবে না, বরং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র একটি সামাজিক উদ্যোগ নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এজন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা সহায়তা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, আইনি সুরক্ষা এবং উপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, “নারী-পুরুষের মধ্যে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রযুক্তি খাতে নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি শুধুমাত্র তাদের জীবনমান উন্নয়নেই নয়, বরং গোটা সমাজের অগ্রগতির জন্যও অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান সরদার এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা কর্মকর্তা ফারহানা কিবরিয়া।

জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের বিভিন্ন ধরনের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পর এসব নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখতে পারেন।

জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সমান ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *