কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে হত্যার পেছনের লোমহর্ষক পরিকল্পনা ও পলাতক সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য।
গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ফটিকছড়ি থানাধীন লেলাং শাহনগর এলাকার দিঘিরপাড়ে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে নিহত হন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন (৪৫)। একই ঘটনায় তার সঙ্গী নাছির উদ্দিন (৪২) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধার করে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ নিহত জামাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী নাজিম উদ্দিন প্রকাশ বাইট্টা নাজিম (৫২)-এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। এরপর তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। অবশেষে গতকাল র্যাবের সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর ফটিকছড়ি থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে। সে জানায়, হত্যাকারীরা গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেও তাদের সঙ্গে নিহত জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই সে মোটরসাইকেলটি তার গ্রামের বাড়ি লেলাং কাবিল মিস্ত্রী বাড়িতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম শহরে আত্মগোপনে চলে যায়।
তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম আরও জানায়, গত বছর চট্টগ্রাম শহরের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ক্রয়ের টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড়ো সাজ্জাদের সঙ্গে নিহত জামাল উদ্দিনের বিরোধ শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের জেরে বড়ো সাজ্জাদ বিভিন্ন সময়ে তার সহযোগীদের মাধ্যমে জামালকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাজিম উদ্দিন নিজেই ফোন করে সাজ্জাদ গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের শাহনগর দিঘিরপাড় এলাকায় ডেকে আনে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে করে তিনজন সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই জামাল উদ্দিন নিহত হন এবং তার সঙ্গী নাছির উদ্দিন গুরুতর আহত হন। এরপর হত্যাকারীদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিনও নিহত জামালের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত নাজিম উদ্দিন আজ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পুলিশ জানায়, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই খুন, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক সন্ত্রাসী বড়ো সাজ্জাদসহ তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।