মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ চোরাই স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
জানা যায়, গত ১১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা মোঃ জহিরুল ইসলাম (৪৪), পিতা–তোফাজ্জেল হোসেন, সাং–৩৯/এ শেরেবাংলা রোড, মাসদাইর, থানা–ফতুল্লা, জেলা–নারায়ণগঞ্জ এর বাসার দরজার তালা খুলে সঙ্গোপনে বসতঘরে প্রবেশ করে। এ সময় নগদ ২৫,০০০ টাকা, ৮টি স্বর্ণের চেইন, ১টি স্বর্ণের গলার হার, ৬টি স্বর্ণের আংটি—সর্বমোট প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ১৪,০০,০০০ টাকা) এবং ১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ মোট ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ জহিরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ফতুল্লা থানায় এফআইআর নং–৪৩, তারিখ ১৩ মার্চ ২০২৬; ধারা ৩৮০/৪৫৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নানের তদারকিতে মামলা রুজুর প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (নিঃ) শামীম হোসেন, সঙ্গীয় এসআই (নিঃ) মোঃ রফিক, বিপিএম ও ফোর্সের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চালিয়ে ১২ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফতুল্লা থানাধীন রহিম চৌধুরী বাড়ির তিন তলার ডান পাশের একটি কক্ষ থেকে দুইজন আসামিকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামিরা হলেন—
১. মোঃ পারভেজ (৪০), পিতা–হাবিব, মাতা–পারভীন, সাং–চৌরঙ্গপাড়া, থানা–বন্দর, জেলা–নারায়ণগঞ্জ। বর্তমানে ফতুল্লার রহিম চৌধুরী বাড়ির ভাড়াটিয়া।
২. মোঃ মিয়াজ (২৯), পিতা–আঃ কাদের, মাতা–বিউটি বেগম, সাং–মাঝকান্দিরচর, থানা–মেহেন্দীগঞ্জ, জেলা–বরিশাল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ৭টি চেইন, ২টি নেকলেস, ১টি ব্রেসলেট, ৪টি কানের দুল—সর্বমোট ৫ ভরি ১৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২৫,০০০ টাকা ও ১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আসামি দুজনই পেশাদার চোর। তারা বিভিন্ন বাসা-বাড়ির তালা ভেঙে সঙ্গোপনে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ড আবেদনসহ সোপর্দ করা হয়েছে।