মোঃ মনির হোসেন:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় সেচ সংকটে পড়ে ব্যাহত হচ্ছে শত শত একর জমির চাষাবাদ।
ঘটনার বিবরণ: অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ফিরোজপুর বাজারের পশ্চিম ব্রিজ থেকে নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট খাল খননের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরঞ্জাম গুটিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক হান্নান সিকদার সম্প্রতি ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিন চিত্র: মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাল খনন প্রকল্পের আওতায় আংশিক কাজ করা হলেও খালের বড় একটি অংশ পূর্বের মতোই ভরাট হয়ে আছে। ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খালে পর্যাপ্ত পানি নেই। পানির অভাবে কৃষকরা এখনো তাদের বোরো আবাদ শুরু করতে পারছেন না।
ক্ষুব্ধ কৃষকদের বক্তব্য: বিষকাটালি গ্রামের কৃষক হোসেন সিকদার, আলমগীর বেপারী ও তুহিন বেপারীসহ স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষ না হওয়ায় যেখানে এক মাস আগেই খালে পানি আসার কথা ছিল, সেখানে এখন মাত্র সামান্য পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি দিয়ে দুটি বিশাল কৃষি প্রকল্পে সেচ দেওয়া অসম্ভব। এর ফলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কৃষক সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অন্যদিকে, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম লড়াইচর গ্রামের কৃষক হোসেন পাটওয়ারী আক্ষেপ করে বলেন, “ঠিকাদাররা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো খাল খুঁড়েছে, ফলে নাব্যতার কোনো উন্নতি হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এগুলো তদারকি না করেই বিল প্রদান করে কি না তা আমাদের বোধগম্য নয়। খালের নামে সরকারি অর্থের অপচয় আর কৃষকদের সর্বনাশ আমরা মেনে নেব না।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালের বাকি অংশ খনন করে তাদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।