ফ্যাসিবাদী শাসনের নিষ্পেষণে প্রাণ দিয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ: রবিন

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, এমন অনেক মানুষ আছে যাদের আশা ও ভরসার সর্বশেষ জায়গা ধানের শীষ। এই আশা ধরে রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে সব রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে কদমতলী থানাধীন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে দিকনির্দেশনামূলক প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে অগণিত নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। তাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা নির্বাচনী মাঠে নামছি।

রবিন বলেন, সদ্য প্রয়াত সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সব অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার। একসময় এমন অবস্থা ছিল, যখন থাকার জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যেত না। আমাদের নেতাকর্মীরা বিগত ১৭-১৮ বছর বনজঙ্গল ও আত্মগোপনে জীবন কাটিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের নিষ্পেষণে প্রাণ দিয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, আমরা সবাই সেই দুঃসময়ের কাছে জিম্মি ছিলাম। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে দেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আর সেই পরিবর্তনের দিন নির্ধারিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

তানভীর আহমেদ রবিন সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ সহজসরল। আমরা খুব দ্রুত কষ্ট ভুলে যাই। অনেক সময় চাপ থেকে সামান্য মুক্তি পেলেই মনে করি আমরা স্বাধীন হয়ে গেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো একটি শ্রেণি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, ফসল ভালো ফলেছে ঠিকই, কিন্তু এখনো ঘরে তোলা হয়নি। এমন ভাব করা যাবে না যেন আমরা ইতোমধ্যে সংসদে পৌঁছে গেছি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই এমন আচরণ করা যাবে না যাতে একজন সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক সৌন্দর্যই হলো সাধারণ মানুষ। তাদের কথায় বা আচরণে যেন কেউ আঘাত না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানিয়ে রবিন বলেন, ভাগ্যে কী আছে একমাত্র আল্লাহ পাকই জানেন। ১২ ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ভাগ্যে কী আছে, সেটাও তিনিই নির্ধারণ করবেন। তাই অতিউৎসাহী হয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করা যাবে না। এমন কিছু করা যাবে না, যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হয়।

তিনি বলেন, ভাগ্য আল্লাহ নির্ধারণ করবেন ঠিকই, কিন্তু ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য জড়িত। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, কিন্তু ধানের শীষ জয়ী হলে তাদের জীবনে পরিবর্তন আসবে।

সবশেষে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর আশা পূরণ করা এখন আমাদের ইমানি দায়িত্ব। রাত-দিন পরিশ্রম করে ধানের শীষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

প্রস্তুতি সভায় কদমতলী ও শ্যামপুর এলাকার বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *