স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যদি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যায় তবে সেটি শুধু অতীতের নয়—ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনকেই আহ্বান জানাবে। তাই দলের এবং জাতির সবাইকে এ দিকে ফেরার উপক্রম না করতে সতর্ক থাকতে হবে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই বার্তা দেন তিনি। এই আলোচনায় তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন, আমরা সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জয়লাভ করি এবং ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করি—সেই ঐক্যই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপায়ণে সবচেয়ে বড় শক্তি হবে।
সালাহউদ্দিন আবেল বলেন, “যে কারণে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং নেতারা পালাতে বাধ্য হয়েছে, সেই রকম ঐক্য যেন আমরা বজায় রাখি। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই আমাদের সামনের পথে এগোবার একমাত্র শক্তি।” তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র—এসব মৌলিক ইস্যুতে সবাইকে এক থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবেই দেশে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়া যাবে না।
জুলাই সনদকে তিনি জাতীয় জীবনে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক, পূর্ণাঙ্গ দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার বাস্তবায়নের জন্য সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ফোরামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটি নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সেই ফোরাম যেখানে আইনগত ভিত্তি রচনা করে জুলাই সনদকে কার্যকর করা সম্ভব।” একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ঐকমত্য গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা সরকারের কাছে, এবং সেই প্রস্তাব গৃহীত হলে কীভাবে আইনগত প্রক্রিয়া চালানো হবে তা জানার সুযোগ পাওয়া যাবে।
সালাহউদ্দিনের ভাষ্য, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাংবিধানিক প্রসেসের বাইরে না যাওয়া—রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে সুষ্ঠু নিয়মতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই যাতে এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলা না যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমাদের যে টোটাল প্রক্রিয়াটি চলছে, কোনো ভবিষ্যৎ সময়ে কেউ সেটিকে অবৈধ বলে দাবি করতে না পারে—এর জন্য এখনই শক্ত ভিত্তি রচনা করতে হবে।” তিনি বলেন, এটা শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী দশ, পনেরো বছরের জন্যেও একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি গড়ার কথা।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারী এনসিপিসহ অন্যান্য দলের প্রতি সালাহউদ্দিনের আহ্বান ছিল—আপনারা যেসব প্রস্তাব বা বক্তব্য দিচ্ছেন সেগুলো বাস্তবসম্মত করে তুলুন এবং ভবিষ্যতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাতে পড়ে না তার দিকে বিশেষ নজর রাখুন। তিনি বলেন, “আমরা যেন এমন কোনো প্রস্তাব না দিই যাতে ভবিষ্যতে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় বা আদালতে নিয়ে যাওয়া যায়।”
সমাপনী অংশে তিনি সকলকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান—“সবার সম্মতিক্রমে এই জাতির ঐক্যের মধ্য দিয়ে যেন আমাদের জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয় এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করার মাধ্যমে এই জাতির প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়।”
আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন-উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং সবাইকে সহনশীলতা, সংলাপ ও সংহতির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানানো হয়।