আমির হোসেন:
রাজধানীর বংশাল থানার ৩৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন এবং সহসভাপতি রোলেক্স পারভেজ হ্যাপির বিরুদ্ধে বহুমুখী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই দুই নেতা বংশাল, মালিটোলা, ইংলিশ রোড ও তাঁতীবাজার এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে আসছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, নর্থ সাউথ রোডে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্রাদার্স ট্রান্সপোর্ট থেকে মাসিক ৭ হাজার টাকা, মা আয়েশা ট্রান্সপোর্ট থেকে ১২ হাজার টাকা এবং সিরাজগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট থেকে ১৩ হাজার টাকা করে নিয়মিত আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরে তাঁতীবাজারের ময়লার স্তূপঘর থেকে প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইংলিশ রোডে বংশাল থানার নিচে জনচলাচলের রাস্তা দোকানদারদের মালামাল রাখার কাজে ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে একদিকে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দিনরাত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায়।
ময়লা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির তথ্য মিলেছে। সিটি করপোরেশনের ময়লা পরিষ্কারের টেন্ডার নিজেদের দখলে নিয়ে বংশাল, পুরাতন মোগলটুলী ও মালিটোলার বাসিন্দা এবং কারখানা থেকে মাসিক ফি দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া রেশন কার্ড বিতরণের নামে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে অতিরিক্ত একশ টাকা করে আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত নেতাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের ছত্রছায়ায় এই চক্র প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জামাল উদ্দিন ও রোলেক্স পারভেজ হ্যাপির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।