বরুড়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ারিদের হাতে বড় আকারের জুয়ার বোট, পুলিশ নিরবদ্ব

বরুড়া (প্রতিবেদন):

বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের সিংগুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ফয়সাল (পিতা: আমিন মিয়া) এবং জুয়ারী সায়েমের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু সহযোগীর মাধ্যমে বড় আকারের জুয়ার বোট বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জুয়ার আয়োজন প্রায় নিয়মিতভাবে চলে এবং প্রশাসন তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

গ্রামের মানুষজন জানান, ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এ কাজে সায়েমসহ আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। তারা গ্রামে জুয়ার আয়োজনকে ব্যবসার মতো চালাচ্ছে, যেখানে স্থানীয় যুবক ও অন্যান্য মানুষ বাধ্য হয়ে অংশ নিচ্ছেন। গ্রামে তাদের সাহস দেখার এক প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পুলিশে খবর থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, জুয়ার আয়োজন প্রতিবারই ভিন্নভাবে হয়। রাতে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বড় আকারের জুয়ার বোট বসানো হয়। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষকে বাজি ধরতে বাধ্য করা হয় এবং বিপুল অর্থের লেনদেন চলে। অনেক সময় সেখানে মাদক ও বাজির টাকা একসাথে ঘুরে। এ কারণে এলাকার যুবকরা নানাভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা বহুবার থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখেননি। “পুলিশকে কিছুই করার নেই মনে হয়, তারা শুধু খবর রাখে। ফয়সাল ও সায়েম খুবই প্রভাবশালী। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদে রাখতে পারছি না,” অভিযোগ করেন গ্রামের একজন বাসিন্দা।

বরুড়া থানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এক কর্মকর্তা সংক্ষেপে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গ্রামে এই ধরনের বোট বসানো ও মাদক-জুয়ার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো কোনো দৃষ্টান্তমূলক অভিযান দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক ও জুয়ার সাথে যুক্ত গ্রুপগুলো যদি অবাধে কাজ করতে থাকে, তবে তা এলাকায় আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি। স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে।

গ্রামের মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে এবং ফয়সাল, সায়েমসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তারা চাইছেন, গ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরাতে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।

বরুড়া উপজেলার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম সমাজে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *