বারহাট্টায় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে ‘ডাকাতি’ নাকি পাওনা টাকা নিয়ে নাটক

ক্রাইম রিপোর্টার:

নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে কথিত এক ডাকাতির ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি নিয়ে গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী পক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো ডাকাতি নয়, বরং পাওনা টাকা না দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রহস্যের সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরীর সাথে তার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন ব্যক্তি মোঃ জুবায়েরের (২৭) বিরোধের সূত্রপাত পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে। জুবায়ের দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের সাথে রাস্তার সংস্কার ও বেকু (ভেকু) দিয়ে মাটি ভরাটের কাজ করে আসছিলেন। কাজের মজুরি বাবদ বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা হলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

গ্রামের মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয় এবং চেয়ারম্যান টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। ৩১ জানুয়ারি সকালে পাওনা টাকা আনার কথা বলে জুবায়ের চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে চেয়ারম্যান বা পরিবারের কাউকে না পেয়ে তিনি রাগে চিৎকার-চেঁচামেচি করে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে।

মামলা ও পুলিশের তৎপরতা

কথিত এই ডাকাতির ঘটনায় চেয়ারম্যানের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটিতে পাওনাদার মোঃ জুবায়ের এবং বাপ্পি মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তবে দিনের আলোয় সকাল ১০টার সময় জনাকীর্ণ এলাকায় এমন ‘ডাকাতি’র খবর শুনে হতভম্ব পুরো এলাকাবাসী।

গ্রামবাসীর বয়ান ও ক্ষোভ

সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন। ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুবেল আহমেদ, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, মোঃ হাসেন আলীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ একযোগে দাবি করেন যে, ডাকাতির বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেন,

“জুবায়ের দীর্ঘকাল চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে কাজ করেছে। এখন পাওনা টাকা চাইলে তাকে ডাকাত বানিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা সাধারণ জনগণ মনে করি, পাওনা টাকা থেকে বাঁচতেই এই মিথ্যা অভিযোগের নাটক সাজানো হয়েছে।”

বক্তব্য প্রদানকারী অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ মানিক মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, লাল মিয়া, জালাল উদ্দিন, রতন মিয়া, নার্গিস আক্তার, নাজমুল নাহার, খালেদা আক্তারসহ আরও অনেকে। তারা সবাই চেয়ারম্যানের এমন আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর পুরো এলাকায় কানাঘুষা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী জুবায়ের ও তার পরিবার মিথ্যে মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসী জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক এবং টাকার অভাবে বিপাকে পড়া জুবায়ের যাতে হয়রানির শিকার না হয়।

বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *