বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্মানী দেওয়া হবে: কায়কোবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: 

মুরাদনগরের শ্রীকাইলে কাজী কায়কোবাদের জনসভায় জনতার ঢল


মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশে সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের আগমনে বিএনপি নেতা–কর্মীদের চেয়েও সাধারণ জনতার উৎসবমুখর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিকেল ২টায় সমাবেশ শুরু হলেও সকাল থেকেই মিছিলের পর মিছিল জনতার স্রোত নামে সমাবেশস্থলে।

খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের সঙ্গে সঙ্গে ‘কায়কোবাদ দাদাভাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শ্রীকাইল কলেজ মাঠের বিশাল সমাবেশ। নারী–পুরুষ, কৃষক–শ্রমিক জনতার উত্তাল ঢেউ জনসমুদ্রে রূপ নেয় সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের জনসভায়।

৮ নভেম্বর শনিবার দুপুরে শ্রীকাইল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক পাঁচবারের এমপি ও মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, যারা জেল খেটেছেন, মামলা খেয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, ইনশাআল্লাহ তাদের প্রতিদান আমরা দেব এবং তাদের সম্মানী দেওয়া হবে।”

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন,
“আমার কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেছে আজকের শ্রীকাইলের মানুষের উপস্থিতি দেখে। আমি তো আপনাদের কামলা। মুরাদনগরের গরিব নারী–পুরুষই আমার নেতা। আমি তাদের কামলা হয়ে মুরাদনগরে আছি এবং থাকতে চাই।”

“আপনারা আমাকে পাঁচবার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তৃতীয়বার যখন নির্বাচন হয়, তখন হাসিনা ছিল সরকার। সে ঢাকা থেকে বড় বড় সন্ত্রাসী এনেছিল নির্বাচন বানচাল করার জন্য, কিন্তু আল্লাহর রহমতে তারা কিছুই করতে পারেনি।

২০০১ সালে আপনারা আমাকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় আমি হজে যাচ্ছিলাম। তখন সবাই জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি চলে গেলে নির্বাচন করবে কে? আমি বলেছিলাম, পাশ করানোর দায়িত্ব আমার আল্লাহর। তিনি আমাকে দেখবেন। তারপর আমি হজ থেকে নির্বাচনের মাত্র ৮–৯ দিন আগে ফিরে এসেছিলাম। ফিরে এসে মাত্র কয়েকটা ইউনিয়নে গিয়েছিলাম। আল্লাহ আমাকে সেই নির্বাচনেও জয়ী করেছেন।”

“ভাইয়েরা আমার, সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচনকে ঘিরে একটি ইসলামী দল অংশ নিয়েছে এবং আরও অনেক দল অংশ নেবে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন জায়গায় বিএনপিকে নিয়ে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে।

আমি জামায়াতকে প্রশ্ন করতে চাই— শেখ মুজিব যখন বাকশাল করে জামায়াতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন আপনাদের রাজনীতির সুযোগ দিয়েছিল কে? আপনাদের রাজনীতি করার সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। অথচ আপনারা এখন সেই বিএনপিকে নিয়ে মোনাফেকি করছেন— মোনাফেকি করা ঠিক নয়।”

“১৯৯৬ সালে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনে নিজেরাই বিপদে পড়েছিল। তাই ২০০১ সালে বেগম জিয়া তাদের আমাদের সঙ্গে এনে ১৮টা সিট দিয়েছিলেন, যা তারা আর কোনোদিন পায়নি।

তারা এতটা অকৃতজ্ঞ হবে ভাবতেও পারিনি। তাদের দুজনকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিল বিএনপি সরকার। এই সুযোগে তারা নিজেদের দলকে সংগঠিত করেছে। যাদের কারণে এমন সুযোগ পেয়েছেন, তাদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা ঠিক নয়।”

“২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টর্নেডোর কারণে শ্রীকাইলে তিনটি ঘর উড়ে গিয়েছিল। আমি লোক পাঠিয়ে তাদের সব প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিয়েছিলাম— ঘর, কম্বল, হাড়ি–পাতিল সব। তখন একজন এসে বলল, দাদা সবকিছু তো পাইছি, কিন্তু ১০ হাজার টাকা তো পাই নাই। আমি বললাম, কিসের টাকা? আমি তো টাকা দেই নাই!

পরে শুনলাম, সে জামায়াত করে বলে তাকে জামায়াত থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে, বাকিদের কিছু দেয়নি। তখন আমি বললাম, আপনারা একজনকে দিলেন, বাকিরা কি মুসলমান না? তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি।”

“ভাইয়েরা, সাবধানে থাকবেন। তারা অনেক কথা বলবে, অনেকভাবে বুঝানোর চেষ্টা করবে। তারা যখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে আসে, তখন তাদের জিজ্ঞেস করবেন— তারা কোরআন–হাদিস অনুযায়ী চলে কিনা, তাদের পরিবার ইসলামী নিয়মে চলে কিনা?”

“আমাদের মুরাদনগর থেকে শ্রীকাইল, বৃষ্টপুর থেকে শ্রীকাইল, মেটাংগর থেকে শ্রীকাইল— এই সব রাস্তা একসময় চলাচলের অনুপযোগী ছিল, এগুলো আল্লাহ করিয়েছেন আমার উছিলায়। বিগত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা একটাও রাস্তা করেনি। আমি ক্ষমতায় থাকতে প্রতি বছর টিআর দিয়েছিলাম, কিন্তু ১৭ বছরের টিআর গেল কই? সব মেরে দিয়েছে চোরের দল!”

“আমাকে বরণ করার জন্য নিজেদের পয়সা খরচ করে আপনারা এক লক্ষ মানুষ বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানকেও আপনারা বরণ করে নিতে হবে।”

“আগামী নির্বাচনে আমার মা–বোনেরা, ভাইয়েরা, বাবারা সকালে–সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবেন ধানের শীষ অতীতের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে।”

“আমি বিদেশে থাকাকালে আমাকে জন্ম দিয়ে লালন–পালন করা আমার মায়ের জানাজায় থাকতে পারিনি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা লক্ষাধিক মানুষ জানাজায় উপস্থিত হয়ে আমাকে শান্ত করেছেন।

আমাদের শ্রীকাইলের যে ভাইয়েরা বিগত ১৭ বছরে বিদায় নিয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করবেন। অসংখ্য নেতাকর্মী জেল খেটেছেন, আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন।”

“ইনশাআল্লাহ, শ্রীকাইলে আপনাদের কামলা হিসেবে আবারও আসব, লেটকা দিয়ে বসে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।”

সভাপতিত্ব করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন।
সঞ্চালনায় ছিলেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান ও শ্রীকাইল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. এনামুল হক।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্রীকাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইসাহাক মুন্সী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আখতারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জুননুন বসরী প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সৈয়দ আমজাদ আলী তসু, শাহ আলম সরকার, মো. সজল খান, ফারুক সরকার মজিব, নেতা আব্দুল মোমেন, মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবি, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহিমিনা আক্তার।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক, মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সোহেল সামাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক আহমেদ বাদশা।

আরও উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. খায়রুল হাসান, সদস্য সচিব সুমন মাস্টার, সিনিয়র সহ–সভাপতি নাজিম, বিএনপি নেতা গোলাম হাক্কানী, মো. জয়নাল আবেদিন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য মো. আবুল হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য মাহবুব হাসান মালু, শ্রীকাইল ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নারায়ণ চন্দ্র, এমরান খান, শেখ আবুল হাসেম, আলমগীর সরকার, আবু মুসা, ছাত্রদলের সাবেক সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবু, শ্রীকাইল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শিপন প্রধান, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক, উপজেলা সাইবার দলের সদস্য সচিব ফারুক ভূঁইয়া, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. শফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন।

সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *