বিএনপি সরকার নির্বাচিত হলে প্রতিটি মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সাঁতারকুলে সমাবেশে -তারেক রহমান

জে আই জুয়েল: 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এম. এ. কাইয়ুমের বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

আগামীর দেশনায়ক, গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের রাজনৈতিক অভিভাবক, দেশরত্ন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই সমাবেশে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তাঁর নির্বাচনী আসনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের কারণে ড. এম. এ. কাইয়ুমের সমাবেশস্থলে রাত এগারোটার দিকে এসে পৌঁছান। তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য সমাবেশে উপস্থিত মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বসে ছিলেন।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, আমরা নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। নারীদের ভাগ্য উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সব সময় কাজ করেছে। স্কুল-কলেজে নারীদের পড়াশোনা ফ্রি করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার। কৃষকদের জন্যও সুখবর দিয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সুবিধা নিতে পারবেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৯১ সালে এই আসন থেকেই তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই এলাকার জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। পরে তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ড. এম. এ. কাইয়ুমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

এদিকে ড. এম. এ. কাইয়ুম বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেন—চিকিৎসার জন্য একটি সরকারি হাসপাতাল, একটি কলেজ এবং খেলাধুলার জন্য একটি সরকারি মাঠ। এ সময় তিনি নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই এলাকার যত উন্নয়নমূলক কাজ আমি করেছি, আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করলে এলাকার সব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ষোল বছর আমি আওয়ামী লীগের হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করেছি। বিএনপির দুর্দিনে আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন তার বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানকে দেখিয়ে দেব—ড. কাইয়ুমকে ধানের শীষে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, এই আসনে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটার রয়েছে। আওয়ামী লীগ ড. কাইয়ুমের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তবুও তিনি ধানের শীষের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের উদ্দেশে বলতে চাই—ধানের শীষের প্রার্থীকে কোর্টে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আপনারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন—এটাই বাস্তবতা।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ড. কাইয়ুমের সহধর্মিণী সামিমা শুরুতে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর আমরা একটি সুন্দর ভোট দেওয়ার পরিবেশ পেয়েছি। তাই এবারের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা করি।

এ সময় বাড্ডা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি নবী হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব **শাহ আলম (আলম)**সহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *