স্বাধীন সংবাদ খেলা:
বাংলাদেশের তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এবার আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন বলে ঠিক থাকলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে নিরাপত্তার কারণে স্কোয়াড থেকে সরাতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে গেছে এবং বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ছাড়িয়ে সরকারের পর্যায়েও পৌঁছেছে।
তবে আইপিএল ইস্যু যতই আলোচনা বা সমালোচনার মুখে আসুক না কেন, মোস্তাফিজ চলমান বিপিএলে তার পারফরম্যান্সে কোনোভাবেই ছাপ পড়তে দেননি। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে তিনি প্রতিটি ম্যাচে দারুণ বোলিং করছেন। কখনো প্রতিপক্ষকে উইকেটে ভেঙে দিয়েছেন, আবার কখনো স্লগ ওভারে অবিশ্বাস্য কিপটে বোলিং দিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছেন। তার এই অতিমানবীয় ফর্মই রংপুরকে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
বিপিএলের ম্যাচের ফাঁকে মোস্তাফিজ ও তার সতীর্থরা কিছুটা অবসরও পেয়েছেন। আগামী ৯ জানুয়ারির আগে তাদের আর মাঠে নামতে হবে না। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করছেন। সম্প্রতি হোটেলের ছাদে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি’। এর আগে গত রাতে তার আরও একটি ফেসবুক পোস্ট ছিল, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘চোখ মাঠে, মন জয়ের দিকে’।
মোস্তাফিজের এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার তার মনোভাব ও মানসিক অবস্থার পরিচায়ক। তার সতীর্থরা জানিয়েছেন, আইপিএল বাদ পড়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দিতে পারে, কিন্তু মোস্তাফিজ নিজেকে শান্ত রেখেছেন। মাঠে পারফর্ম করাটাই আপাতত তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তার এই ফোকাসকে স্বাগত জানিয়েছে। বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “মোস্তাফিজ নিজের দায়িত্ব ও ফর্মে কোনো প্রভাব পড়তে দেননি। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার এই মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
আইপিএল ছাড়াও মোস্তাফিজের চলমান বিপিএল পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলে সুযোগের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে রাখছে। রংপুর রাইডার্সের কোচও বলেছেন, “তার আত্মবিশ্বাস এবং ফিটনেস পুরো দলের জন্য উদাহরণ। বিপিএল চলাকালীন এমন মানসিক স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
মোস্তাফিজুর রহমানের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ও সমস্যার মাঝেও খেলোয়াড়রা কীভাবে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। তার ফেসবুক পোস্ট এবং মাঠের পারফরম্যান্স একত্রে দেখাচ্ছে, পেশাদারিত্ব ও মানসিক দৃঢ়তা কোনো বাধা-পরিস্থিতিতে ছাপ ফেলতে দেয় না।