সাগর চৌধুরী ভোলা:
১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী উম্মে সালমা বিউটি বলেন, “আমি দক্ষিণখানে পূর্বাচলে ০৫ (পাঁচ) কাঠা জমির মালিক। আমি ২০০৮ সালে এই জমি জনাব আবুল হোসেন (তোফাল চেয়ারম্যানের ভাই) এর নিকট থেকে ক্রয় করি। এর পর উক্ত জমিতে মাটি ভরাট করে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর পর আরসিসি পিলার দিয়ে বাউন্ডারি দিয়েছি। এই জমির দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন ছিল।
হঠাৎ আনুমানিক দুই মাস পূর্বে ডেভেলপার কোম্পানি আসিয়ান সিটির সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমার জমির আরসিসি প্রাচীরের আংশিক ভাঙচুর করা হয়। পুনরায় আনুমানিক ১০ দিন পূর্বে আমার জায়গার সীমানা লাচিসের বাকী অংশ ভেঙ্গে ফেলেছে। পাশের প্লটের সাইনবোর্ডও ভেঙ্গে ফেলেছে। আসিয়ান সিটির সন্ত্রাসীরা আমার প্লট দখলের পায়তারা করছে। শুধু আমার জমি নয়, আশেপাশের অন্যান্য মালিকের জমিতেও হামলা চালাচ্ছে। আমার মালিকানা জমি দেখতে গেলে আসিয়ান সিটির সন্ত্রাসীরা নানাভাবে হুমকী-ধামকী দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমি দক্ষিণখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
উল্লেখ্য, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে পূর্বে আসিয়ান সিটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই কারণে এলাকাবাসী তাদের অত্যাচার থেকে সুরক্ষিত ছিল। ৫ই আগস্টের পরে তারা প্রচার শুরু করে যে, আদালতের রায়ের মাধ্যমে আসিয়ান সিটির কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সন্দেহ প্রকাশ করছে, এবং আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই বিষয়টি সত্য কি না।
যদি আসিয়ান সিটির কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা না থাকে, তাহলে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই মর্মে আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু অন্যের মালিকানা জমি দখলের আদেশ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়েও আমরা সরকারের এবং মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের কাছে প্রতিকার চাই।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম অন্তবর্তীকালীন সরকার শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবে। আমরা ভেবেছিলাম দেশে ভূমিদস্যুদের আর কোনো আধিপত্য থাকবে না। কিন্তু ঘটছে তার উল্টো। ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নির্দোষ ও নিরীহ মানুষের জমি দখলে উঠেপড়ে লেগেছে। সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছি, কিন্তু এখন সন্ত্রাসীদের আক্রমণের ভয়ে আমি জায়গা দেখতে যেতে পারছি না। আমি আশঙ্কা করছি তারা আমার ও আশপাশের জমির মালিকদের উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে। আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি, আপনারা আপনার লেখার মাধ্যমে আমার মতো অসহায় জমির মালিকদের পাশে দাঁড়াবেন। সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।”