মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
সংরক্ষিত নারী আসনে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের দৃঢ় অবস্থান ও আত্মবিশ্বাসের জানান দিলেন পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকা। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এর আগে শনিবার একই কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তিনি। ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রস্তুতি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমর্থন নিশ্চিত করে অবশেষে মনোনয়নপত্র জমার মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেন পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকা। তার এই পদক্ষেপকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি সুপরিকল্পিত ও আত্মবিশ্বাসী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত বাবু কপিল কৃষ্ণ মন্ডলসহ বাগেরহাট ও খুলনা জেলার বিএনপির শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তাদের উপস্থিতি প্রিয়াংকার প্রতি দলীয় সমর্থন, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে প্রিয়াংকার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করছেন, নারী নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দলীয় এই উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে এবং নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মনোনয়ন জমা শেষে পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকা বলেন, “দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যদি আমি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নারীরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, কিন্তু এখনও অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার। সেই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে নারীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাগেরহাট আমার কাছে শুধু একটি এলাকা নয়, এটি আমার দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের জায়গা। এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “তরুণদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।”
প্রিয়াংকা আরও জানান, তিনি একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে নারী-পুরুষ সমানভাবে দেশের অগ্রযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে। তার মতে, সমন্বিত উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বাগেরহাটসহ সারাদেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকার এই মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তার রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।