মাধবদীতে আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সৎ বাবা গ্রেফতার, হত্যার স্বীকারোক্তি

মনিরুল ইসলাম:

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় আলোচিত আমেনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সৎ পিতা নিজেই মেয়েটিকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে চারজনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টায় নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক। তিনি জানান, নিহত আমেনার সঙ্গে নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা (২৮)-এর পূর্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সূত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার প্রায় ১০-১২ দিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে) হযরত আলীর বাড়িতে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার।

এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমেনার সৎ পিতা আশরাফ আলী (৪০) তাকে হত্যা করেন। তিনি আমেনাকে এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে পথে নিয়ে যান এবং ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল আসামি আশরাফ আলীকে ৬ মার্চ মাধবদীর দড়িকান্দি থেকে ধরা হয়। যদিও তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মোয়াকুড়া গ্রামে, তিনি মাধবদীতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। এ ছাড়া, আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা গাজীপুরের মাওনা থেকে এবং হযরত আলী ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ জানায়, আশরাফ আলী, নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা এবং হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *