মুশফিকের শততম টেস্টে অনুপ্রাণিত পেসাররা

স্বাধীন সংবাদ খেলা:

ঢাকা টেস্টে রোববার বাংলাদেশের জয়ে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বসেছিল উদযাপনের দৃশ্য। স্বাগতিকরা ২১৭ রানের বড় জয়ের পর মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছিল, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা দিয়ে সন্মান জানানো হলো। মাঠে দাঁড়িয়ে মুশফিক যখন পাশের অনেক ক্রেস্ট দেখলেন, তিনি হেসে বললেন, “এত ক্রেস্ট কোথায় রাখব।”

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে শততম ম্যাচ খেলেন মুশফিক। শুধু শততম ম্যাচই নয়, তিনি অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরাও হন। এমন মাইলফলক অর্জন প্রত্যেক ক্রিকেটারের জীবনে বারবার আসে না। বাংলাদেশের স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আরও কয়েকটি সংগঠন মুশফিককে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা দিয়েছে। এই উদযাপন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদেরও অনুপ্রাণিত করেছে; বিশেষ করে পেস বোলাররা এখন ১০০ টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

ঢাকা টেস্টের পাঁচটি দিন কেমন কাটল জানতে চাইলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেন, “মুশি ভাইয়ের উদ্যাপন ভেতরে-বাইরে সবার জন্য আনন্দের ছিল। ম্যাচটি সবাই খুব উপভোগ করেছে। মুশি ভাইও অনেক উপভোগ করেছেন। ড্রেসিংরুমে এক পেসার বলেছিল, আমি ও ১০০ টেস্ট খেলতে চাই। আমাদের মতো দেশে একজন পেসারের এমন স্বপ্ন দেখা সত্যিই সাহসের বিষয়।”

সিরিজ শুরুর আগে থেকেই মুশফিকের শততম ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করেছেন। মাইলফলক উদযাপন নিয়ে মুশফিক বলেন, “আমি আরও খেলতে চাই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। ১০০টি টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াও আমার সৌভাগ্য। খুব শিগগিরই আমাদের দারুণ একটা দল তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন আমি তরুণ ছিলাম, তখন দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের পথ দেখানোও আমার দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করি আমার সবটুকু দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে। আশা করি নতুনরা শুধু আমার কাছ থেকে নয়, দলের সবার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখবে।”

বাংলাদেশের টেস্ট সূচি কম থাকায় মুশফিকও অনেক ম্যাচ খেলতে পারেননি। আয়ারল্যান্ড দল মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছে। আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি বলবার্নি বলেন, “আমাদের চারজন নতুন টেস্ট ক্রিকেটার হয়েছে, যা বিশেষ। মুশফিকুর শততম টেস্ট খেলা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার অভিষেক হয়েছিল ২০ বছর আগে। আমাদের খেলোয়াড়দের ১০০ টেস্ট খেলতে হয়তো ৫০ বছর লাগবে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ক্রিকেটার হওয়া সহজ ছিল না, কিন্তু মুশফিক এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি যে কোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।”

মিরপুরের এই দিনটি কেবল মুশফিকের জন্য নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য গর্বের। ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য পরিশ্রম করা মুশফিকুর রহিম এখন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *