চাঁদপুরে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়, ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়ার পর অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. আবুল কালাম আকন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২ জুলাই ২০২৫ সন্ধ্যায় একটি মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে খবর পান যে, সদর থানাধীন ১১ নম্বর ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের সেলিম চেয়ারম্যানের গুচ্ছগ্রামের দক্ষিণ পাশে মেঘনা নদীর তীরে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে আছে। সংবাদ পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পান।

পরবর্তীতে বিষয়টি আলুরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হলে এসআই মো. চাঁন মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহটি চাঁদপুর সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহত নারীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথায় ৪×৩ সেন্টিমিটার আকারের ফোলা অংশ এবং মুখের বাম পাশে ঘর্ষণের ক্ষত (abrasion) শনাক্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা যায়, মাথায় আঘাতের পর পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. মো. আবুল আহসান চৌধুরী (এমবিবিএস), আরএমও, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল, চূড়ান্ত মতামতে বলেন,
“মৃত্যুটি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর পানিতে ডুবে শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে এবং এটি জীবদ্দশায় সংঘটিত।”
এছাড়া নিহতের দাঁত ও নখ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় ৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে চাঁদপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং- ০২/৫০) রুজু করা হয়। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত পাওয়ায় বাদী মো. আবুল কালাম আকন অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা ওই তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর থানার মামলা নং- ৪৩ তারিখ -১০/১২/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় বাদি মামলা দায়ের করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, নিহতের পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় কেউ অভিযোগ করতে এগিয়ে আসছে না, । ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের স্বার্থে নিজেই বাদী হয়ে মামলা রুজু করেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার একজন কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের PBI এর মাধ্যমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে, এবং পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি,অজ্ঞাতনামা লাশের বিষয়ে যদি কেউ পরিচয় জানলে দ্রুত তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হইল। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিরস্ত্র) চান মিয়া, ০১৭২০-৪৯৪৬৯২. আলুর বাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *