বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন রুট ডিম পাহাড় তিন্দু সড়ক মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৯ কোটি টাকার এই সড়ক প্রকল্প ঘিরে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও দ্রুত বিল পরিশোধের অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার অংশজুড়ে ফাটল, দেবে যাওয়া ও ধসের চিহ্ন দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অন্তত এক কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্মাণকাজে পাহাড় কেটে মাটি মিশ্রিত বালি ব্যবহারসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে করে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে বেশিরভাগ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশে কাজ করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসমূহ—যার মধ্যে রয়েছে মেসার্স এম এম ট্রেডার্স এবং মি. ইউটিং মং। উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজ বাস্তবায়ন করেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সুজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এই প্রকল্পেও তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ইট সলিং সড়কটি তুলনামূলক ভালো ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্পেটিং উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা মানসম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ।
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ক্রানি আং মারমা বলেন, উন্নয়নের নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও এখন সড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নের কথা বলে এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
এলজিইডির অধীনে প্রকল্পের প্রথম ৪ কিলোমিটার কাজের দায়িত্ব পান এবং ৩.৪ কিলোমিটার অংশের কাজ অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান অভিযোগ এড়িয়ে বলেন, অনিয়মের বিষয়গুলো তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনা।
অন্যদিকে এলজিইডির প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেন জানান, প্রকল্পের ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না। তার দাবি অনুযায়ী, প্রথম প্যাকেজে প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আহসান হাবিব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত মন্তব্য জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটক সড়কটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।