স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড এলাকায় নির্মাণাধীন দুটি বহুতল ভবনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভবন দুটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নির্ধারিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর একটি ‘আজোয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং অন্যটি ‘নূর স্কাই ভিলা’, যা রাজউক জোন-৭ এর অন্তর্ভুক্ত ৭৪২, হাজী নাসির উদ্দিন রোড, দনিয়া, ঢাকা-১২৩৬ ঠিকানায় গড়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডে যৌথ মালিকানায় নির্মিত ‘আজোয়া’ প্রকল্পটি মূলত ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই ভবনের নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিও ছিল সীমিত।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনের চারপাশে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রাখা হয়নি, যা নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনের সামনে, পেছনে এবং পাশে নির্ধারিত ফাঁকা জায়গা না থাকলে জরুরি অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস বা উদ্ধারকর্মীদের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবাহ এবং বসবাসযোগ্য পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। কোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ‘নূর স্কাই ভিলা’ প্রকল্প নিয়েও। রাজউক জোন-৭ এর আওতাধীন এই ভবনের নির্মাণকাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই ভবনটির ক্ষেত্রেও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করছেন, যথাযথ অনুমোদন ও তদারকি ছাড়া দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “দুইটি ভবনের কাজই এখনো চলমান। কিন্তু এখন থেকেই নানা ত্রুটি চোখে পড়ছে। ভবন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এসব সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।”
স্থানীয়দের ধারণা, অতীতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এসব প্রকল্পের নকশা অনুমোদন পেয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং যথাযথ তদারকি করা হয়নি। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হলে ভবন নির্মাণে আরও অনিয়ম ও ত্রুটি বেরিয়ে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণাধীন অবস্থায় যদি অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ধরনের ভবনে বসবাসকারী মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন এবং আইনগত জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা রাজউকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই নির্মাণাধীন অবস্থাতেই এসব ভবনের ত্রুটি ও অনিয়ম যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তারা মনে করছেন।