রাজউকের বিধিনিষেধ অমান্য করে যাত্রাবাড়ীতে ‘শরীফ টাওয়ার’ নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার বিবির বাগিচা এলাকার ১/১২/১ নম্বর সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুলের পিছনের গলিতে নির্মাণাধীন ‘শরীফ টাওয়ার’-এ রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের পাশাপাশি নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, ভবনটির উচ্চতা, সড়কের পাশে খোলা স্থান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না। এর ফলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দ্রুত গতিতে বহুতল ভিত্তিক এই ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। তবে সাইটে কোনো অনুমোদিত নকশার কপি বা প্রয়োজনীয় নথি টাঙানো নেই।

ভবন নির্মাণের শব্দদূষণ, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশপাশের বাড়িগুলোর ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, “এটি স্পষ্টতই রাজউকের নকশা বহির্ভূত। তারা কোনো নিয়ম মানছে না। আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে নির্মাণকারীদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আপনার সাথে দেখা করব।” তবে নকশা অনুমোদন বা অনিয়মের বিষয়টি তিনি স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার কথা বললেও তারা কোনো সদুত্তর পাননি। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পেলে এবং নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী, রাজধানীতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, সড়ক ও পাশের ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্ব, ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ও অন্যান্য নিরাপত্তা মানা বাধ্যতামূলক। এ সব লঙ্ঘন হলে জরিমানা, নির্মাণকাজ বন্ধ বা ভবন ভেঙে ফেলার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ এ নির্মাণ দ্রুত বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন অমান্য করে জনসুরক্ষার ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে।

এই বিষয়ে রাজউকের ৬/১ জোন অথোরাইজড অফিসার আব্দুল আল মামুন বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। যতদিন এই জোনে দায়িত্ব পালন করবো, কোনো অন্যায় অনিয়ম করতে দেবো না। আমাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। আমার অফিসারদেরও নির্দেশ দিয়েছি, যতদিন আমি এখানে আছি, কোনো অন্যায় অনিয়ম করবেন না। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করি, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করা সম্ভব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *