রাজধানীর উত্তরায় হোটেল স্টার প্লাসে চলে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ, মূল হোতা আওয়ামী লীগের ধূসর রুবেল।

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা সিটির উত্তরা বিএনএস সেন্টার লিস্টের পাঁচতলায় হোটেল স্টার প্লাস মার্কেটের উপরে দীর্ঘদিন যাবৎ অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ঘণ্টাভিত্তিক রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ছেলেমেয়েদের ওঠানামা দেখা যায়—সরেজমিনে গিয়ে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ম্যানেজার রুবেলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমাদের খাতায় এন্ট্রি আছে; দেখতে চাইলে দেখাতে পারবেন। কিন্তু তিনি তা দেখাতে পারেননি এবং সরকারদলীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে কথা বলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রিয়েল কিছু তথ্য দিয়ে রুম এন্ট্রি করতে হয়, আর এখানে তার প্রয়োজন হয় না। এজন্যই উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশা হচ্ছে নির্বিঘ্নে। এখানে এসে কিছু টাকার বিনিময়ে মেলামেশা করে যাচ্ছেন, এমনকি মাদক, জুয়া খেলা ও মাদক বিক্রি চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এলাকায় ব্যাপক হারে অপরাধ বেড়েই চলছে।

হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ও দেহব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এসি/নন-এসি রুমের সঙ্গে যুক্ত করা থাকে দুটি বা একটি মোবাইল নম্বর। ছোট্ট করে হোটেল কক্ষের ছবি—কোনোটায় গোলাপ ফুল বা ইন্টারনেট থেকে নামানো মেয়ের ছবিও দেওয়া। কিন্তু সেসব হোটেল বা গেস্ট হাউজের কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই—শুধু এলাকার নাম। কোনো কোনো কার্ডে লেখা থাকে—আসার আগে ফোন দিন।

কার্ডের সূত্র ধরে এক নম্বরে ফোন দিলে বলা হয়, “কত দূরে আছেন?” ফোনেই ডিরেকশন দেওয়া হয়—“সোজা উত্তরা পিএনএস চলে আসেন।” সেখানে গেলে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা কয়েকজন পিছু নেয়। কার্ডের নম্বরধারী ব্যক্তি ফোনে বলেন, “এই যে, একটু ডানের বিল্ডিংয়ের দিকে তাকান”—জানালা দিয়ে হাত ইশারা করেন। পৌঁছাতেই অন্তত ছয়-সাতজন ঘিরে ধরে। তারা বলে, “ভাইয়ের কাছে যাবেন? আসেন।” উপরে গেলে সেই কথিত ‘ভাই’ প্রশ্ন করেন—“কেমন বয়সী মেয়ে চান? স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি—সব আছে।” পেছনে তাকালে দেখা যায় ১৫-২০ জন নানান বয়সী মেয়ে বসে আছে। সরাসরি অফার—চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, চাইলে সারারাত থাকা যাবে।

জানতে চাওয়া হয়—প্রকাশ্যে আবাসিক হোটেলের কথা বলে এসব অসামাজিক কাজ চালাচ্ছেন, কেউ বাধা দেয় না? জবাবে বলা হয়, “বড় ভাই আছে না?” তবে সেই ‘বড় ভাই’-এর নাম কেউ বলে না। তাদের ভাষ্যমতে, সবই ‘ম্যানেজ’ করা থাকে। কার্ডে এসব ‘ভাই’-দের আসল নামও দেওয়া থাকে না। এরা মূলত যৌনকর্মীদের দালাল—হোটেলের কথা বলে গ্রাহকদের নিয়ে যায়, কখনো সরাসরি বাসায় সরবরাহও করে।

কার্ডে হোটেলের ঠিকানা কেন নেই—জবাব, “ঠিকানার দরকার পড়ে না, নিজেরাই গিয়ে কাস্টমার নিয়ে আসি।” যুবকদের কাছে জানতে চাইলে বাবর নামের একজন বলেন, “কে বাধা দেবে?” এ সময় আরও কয়েকজন এসে প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়—“এখান থেকে যান, ডিস্টার্ব করবেন না।” তাদের দাপট বেশ ভয়ঙ্কর। আরও কয়েকজন তরুণ জুটে যায়। একজন এসে বলে, “এখানে তোদের কেউ কিছু বলবে না, নির্ভয়ে কার্ড দে।” এরপর তারা ওভারব্রিজের দেয়ালে কার্ড সাজাতে থাকে। এই কাজে ১০-১৫ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে।

এদেরই একজন জানায়, কার্ড বিলির বিনিময়ে দিনে চার-পাঁচশ টাকা পায়। কোনো সমস্যা হলে ‘বড় ভাই’রা আশ্রয় দেয়।

এসব কার্ডে যাদের নাম থাকে তারা মূলত দালাল, আর যাঁরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁদের নাম কেউ প্রকাশ করে না।

বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *