নিজস্ব প্রতিবেদক:
র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, গত দেড় বছর এবং তার আগের সরকারের সময়ে র্যাবের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ তুলনামূলকভাবে খুব বেশি নেই।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
র্যাবের বিরুদ্ধে কথিত খুন, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত নথি চেয়ে তদন্তের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে কোনো তথ্য চাওয়া হলে র্যাব সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা আমরা দেব। তবে কোনো তথ্য না থাকলে তা জানাতে বাধ্য থাকব।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো ট্রাইব্যুনাল র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের। র্যাবের কাজ হলো দায়িত্ব পালন করা এবং কাজের মাধ্যমেই বাহিনীর ভাবমূর্তি জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা।
বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অপকর্মের ঘটনা খুব বেশি নেই। এতে প্রমাণ হয়, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বাহিনী সঠিকভাবেই পরিচালিত হতে পারে।
জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, র্যাব ইতোমধ্যে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে। আগে বিভিন্ন কারণে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া সম্ভব না হলেও এখন সক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় র্যাব কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে ধরনের ‘বাদ’ই থাকুক না কেন, তা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে অনুসন্ধানী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
র্যাবের সম্ভাব্য সংস্কার বা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, র্যাব গঠনের পর থেকে কিছু ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ছিল। এসব সংশোধন করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।