লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখমের পর অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের আত্মহত্যা

আবু সায়েদ:

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে এক অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার পর ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম নাছির আহমদ (৫৫)। তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। গত বছরের আগস্ট মাসে তিনি পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে যান। গত সাত বছর ধরে তিনি পরিবারসহ লক্ষ্মীপুরের ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাছির আহমদের বড় ছেলে প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে নিয়ে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। বাসায় নাছির ও তার ছোট ছেলে, কলেজছাত্র ইমরান আহমেদ অবস্থান করছিলেন। রোববার রাতে অসুস্থ বোধ করলে ইমরান তার বাবাকে ওষুধ খাইয়ে দেন।

সোমবার ভোরে হঠাৎ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানের ওপর ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন নাছির। প্রাণ বাঁচাতে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

এ সময় নাছির বিবস্ত্র অবস্থায় বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে এগিয়ে যান। তখন নাছির তাকে লক্ষ্য করে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে মো. নাছির নামের এক সেলস অফিসারকেও কুপিয়ে আহত করেন তিনি।

ঘটনার একপর্যায়ে নাছির আহমদ তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে আহত চারজনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে নাছির আহমদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইমরান আহমেদ ও মিজানুর রহমান স্বপনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাছির আহমদ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *