লিগের সেরা হয়ে রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি

স্বাধীন সংবাদ খেলা:

বিশ্বফুটবলের সুপারস্টার লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাস গড়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকার (এমএলএস) বর্ষসেরা খেলোয়াড় (এমভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেয় মেজর লিগ সকার কর্তৃপক্ষ।

মেসি এবারের মৌসুমে ইন্টার মিয়ামিকে লিগ শিরোপা জিতাতে মূল ভরসা হিসেবে খেলেছেন। তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও মৌসুম শেষ করেছেন এবং ২৯টি গোলের মাধ্যমে এমএলএস ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষে উঠেছেন। এছাড়া ১৯টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটও জিতেছেন।

এই অর্জনের ফলে মেসি এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই বছর এমভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি মোট দুইবার এই পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে প্রেদরাগ রাদোসাভ্লজেভিচ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

মেসি নিজের বিজয়কে ‘সন্তুষ্টির মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুশি। এবং এই লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুই বছর ধরে এটি জিততে পেরে আনন্দিত। ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়াটা ভালো লাগে, তবে আমি এটি আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করতে চাই।”

এমএলএস প্লে-অফে মেসি দাপট দেখিয়েছেন। ছয় গোল ও নয়টি অ্যাসিস্ট দিয়ে ফাইনালে ইন্টার মিয়ামিকে ভ্যাঙ্কুভারের বিপক্ষে ৩–১ গোলে জিতিয়ে এমএলএস কাপ এমভিপি হয়েছেন। সেই ম্যাচে তিনি দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

গত অক্টোবর মেসি ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি নবায়ন করেছেন। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অর, তিনটি ফিফা বর্ষসেরা ও দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল। এবারের এমভিপি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। মোট ভোটের ৭০.৪৩ শতাংশ মেসি পেয়েছেন। সান ডিয়েগো এফসির আন্দের্স ড্রেয়ার পেয়েছেন ১১.১৫ শতাংশ। মিডিয়া ভোটে মেসি পেয়েছেন ৮৩.০৫ শতাংশ, ক্লাব ভোটে ৭৩.০৮ শতাংশ এবং খেলোয়াড় ভোটে ৫৫.১৭ শতাংশ।

মেসি এমএলএসে এক মৌসুমে ১০টি মাল্টি-গোল ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন। এর আগে স্টার্ন জন, মামাদু দিয়ালো ও জাভিয়ের ইব্রাহিমোভিচের রেকর্ড ছিল আটটি। মেসি প্রথম এমভিপি জেতেন ২০২৪ সালে। সেই মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর দলকে লিগস কাপ জেতাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ২০২৪ মৌসুমে সাপোর্টার্স শিল্ড অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মেসির এই কৃতিত্ব তার ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রেকর্ড, বিশ্বকাপ সাফল্য ও এমএলএসে অসাধারণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে। আজও বিশ্বফুটবলে তার প্রভাব এবং মাঠের দাপট সমানভাবে চোখে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *