লুমিনাসের বিরুদ্ধে ভেজাল সার ও কসমেটিক্স সামগ্রীর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

এমএলএম প্রতিষ্ঠান লুমিনাস ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতীত ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ, সার, ফিশ ফিড ও প্রসাধনী বিভিন্ন ট্রেডনামে বহু-স্তর বিপণন পদ্ধতিতে (এমএলএম) বাজারজাত করছে বলে জানা গেছে। প্রচলিত বাজারদরের তিন থেকে চার গুণ মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি তাদের প্রসাধনীর দাম বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার ও দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের চেয়েও দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেশি।

তাদের বেশিরভাগ ঔষধ আইটেম ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আবার উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত প্রসাধনী আইটেমও বিএসটিআই বা ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত নয়। একইভাবে সার ও ফিশ ফিড কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়।

ব্যালেন্স প্লাস, গো ফ্রেস, উইম্যান হেলথ, সেফটিক্যাল-ডি, পেইন ফ্রেস, মেডিসেফ ডায়া, জিরো পাইলস, ইজি স্লিম, ইয়ো ফ্রেস, ব্যালেন্স প্রেসার, অ্যাজমা সেফ, থ্রোম্যাক্স ও সেফ হার্ট ট্রেডনামে ঔষধি আইটেম এবং টুথপেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু, বডি লোশন, হেয়ার অয়েল, ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ট্রেডনামে এমএলএম প্রতিষ্ঠান লুমিনাস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঔষধও তারা নিজেদের নামে বাজারজাত করে। একইভাবে সারের কোম্পানির মালিকও রাকিব নন। আলাউদ্দিনের মালিকানাধীন মিরাক্কেল এগ্রো কোম্পানির সার ও ফিশ ফিড নিজেদের লুমিনাস ব্যানারে চড়া দামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

উপরোক্ত প্রসাধনী ও ঔষধে ইউনানি ফর্মুলারি অনুযায়ী ভেষজ উপকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে অননুমোদিত ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া ঔষধের ট্রেডনামগুলোও অস্বাভাবিক, যা ইউনানি ঔষধের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রচলিত আইনে এমএলএম পদ্ধতিতে ঔষধের বাজারজাতকরণ বেআইনি।

ইউনানি ঔষধ কোম্পানি “মেডিসেফ” এবং এমএলএম প্রতিষ্ঠান “লুমিনাস” কর্তৃক অননুমোদিত, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ ও প্রসাধনী বাজারজাত করার ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আবার ‘কৃষক বাঁচাও, মাটি বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে লুমিনাস মিরাক্কেল এগ্রো অ্যান্ড কসমেটিকস লিমিটেড কর্তৃক সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতীত ভেজাল ও নিম্নমানের মিরাক্কেল গ্রোথ সারমিরাক্কেল ফিশ ফিড উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লুমিনাস গ্রুপের চেয়ারম্যান রেজওয়ানা শারমিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ এবং পরিচালক সেরাজাম মুনির (ওরফে ডেসটিনি মুনির)। তবে কাগজপত্রে কোম্পানির মালিক হিসেবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিব হোসেনের নাম রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে শেয়ার প্রদান না করেই পরিচালক বানানো হয়, আবার পরে তাদের বাদ দেওয়া হয়। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চেক দেওয়া হলেও ব্যাংকে জমা দিলে টাকা না থাকায় বারবার তা ডিজঅনার হয়। পাওনা টাকা ফেরত পেতে অনেককে দিনের পর দিন রাকিবের অফিসে ধর্না দিতে হচ্ছে।

বৃহত্তর জনস্বার্থে লুমিনাস গ্রুপের এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *