লোহাগাড়ায় ইউএনওর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নাজমুল মোস্তফা আমিন

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীর মতো আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইউএনও নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেননি। বরং একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “দলীয় কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে একটি দল নিজেদের ইচ্ছামতো জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।”

নাজমুল মোস্তফা আমিন, যিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, বলেন—এই নির্বাচনে তার ব্যক্তিগত পরাজয় হয়নি; বরং পরাজিত হয়েছে লোহাগাড়া উপজেলার নাগরিক সমাজ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পূর্ব থেকেই ইউএনও বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন এবং আচরণে এমন বার্তা দিয়েছেন যে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা নন, বরং একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং তার নির্বাচনী এজেন্ট আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর কাছে ইউএনওর বিরুদ্ধে একাধিক মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ আসে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে তারা সংযম প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচনী পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীর বরাত দিয়ে বলা হয়, এই ফলাফল কেবল একজন প্রার্থী বা একটি দলের পরাজয় নয়; বরং এটি লোহাগাড়া উপজেলার ভোটারদের প্রত্যাশার পরাজয়। তাদের মতে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ আর না ওঠে।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইউএনওর মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *