শতাধিক দলের নিবন্ধন পুনর্বহালের দাবিতে রাস্তায় নেতাকর্মীরা

সাগর চৌধুরী ভোলা:

অহিংস গণ আন্দোলন-এর আহ্বায়ক মোঃ আবদুল্লাহ ২৪ নভেম্বর ২০২৫ এক যুক্ত বিবৃতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন—
(১) তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন স্থানে হানাহানাহানি, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতি নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশাকে নষ্ট করছে এবং সহিংসতার আশঙ্কা আরও বাড়াচ্ছে।

(২) তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণা ও দলীয় প্রচারণা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসবের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারায় এর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

(৩) নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী শতাধিক রাজনৈতিক দলকে বাছবিচার ছাড়া বাতিল করা দল গঠনের সাংবিধানিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বৈধ প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে।

(৪) রাজনৈতিক দলসমূহকে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণভাবে আমলানির্ভর কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব, অনভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালী আচরণ দেশকে বিরাজনীতিকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

(৫) সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রকটভাবে সামনে এসেছে। জনগণের জীবনরক্ষায় ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও শহরকেন্দ্রিক জরুরি উদ্ধারকারী টিম গঠন এখন সময়ের দাবি—যা আসন্ন নির্বাচন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

(৬) ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সামরিক উত্তেজনা, রোহিঙ্গা সমস্যা, কুকিচীন ও আরাকান আর্মির তৎপরতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। এ পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীকে আরও সক্ষম করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।

(৭) ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত ও দুর্বল অর্থনীতির ওপর নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতা চাপ সৃষ্টি করলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

(৮) সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সন্ত্রাসী গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসা, কালোবাজারি ও চাঁদাবাজি দমন জরুরি—অন্যথায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

(৯) তফসিল ঘোষণার আগে জনগণের মতামত যাচাই করতে গণভোট আয়োজনের দাবি জানায় অহিংস গণ আন্দোলন। তাঁদের মতে, সংস্কার প্রশ্নে জনগণের ম্যান্ডেট স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

(১০) অবশেষে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপরোক্ত সব দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারকে সহযোগিতার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। পাশাপাশি তারা জাতীয় কোরামসহ যেকোনো সংলাপ প্লাটফর্মে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মতো নতুন রাষ্ট্রগঠনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *