মোঃ আনজার শাহ
অপরিকল্পিত নগরায়নের বেড়াজাল ছিঁড়ে কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও দুর্যোগসহনশীল মহানগরে রূপান্তরিত করার স্বপ্ন এবার আইনি রূপ পেতে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের প্রথম পর্বে আজ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের মহান জাতীয় সংসদে ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
স্পিকারের আহ্বান ও বিল উত্থাপন
অধিবেশনের শুরুতে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ, দিনের সম্পূরক কার্যসূচি অনুসারে আমি মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্পিকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ। আমি জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”
বিলের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
বিলটি উত্থাপন করতে গিয়ে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কুমিল্লা ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহ সমন্বয় করে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেসব লক্ষ্য অর্জন করা হবে, সেগুলো হলো—
সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা;
অপরিকল্পিত নগরায়ন কঠোরভাবে রোধ করা;
দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা;
তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের সুষম বিকাশ ঘটানো;
নাগরিকদের উন্নত ও মানসম্পন্ন জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ঐতিহাসিক ও সম্ভাবনাময় এই নগরীকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে কুমিল্লা অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও টেকসই হবে।
কণ্ঠভোটে বিল গৃহীত
বিল উত্থাপনের পর মাননীয় স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “সংসদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে— সংসদে উত্থাপিত আকারে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক। যাঁরা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন, তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলুন; যাঁরা বিপক্ষে আছেন, তাঁরা ‘না’ বলুন।”
কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের সুস্পষ্ট জয় হলে স্পিকার ঘোষণা করেন, “কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গৃহীত হলো।”
রাজধানী ঢাকার বাইরে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্লেষকেরা কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রস্তাবিত কর্তৃপক্ষ কার্যকর হলে কুমিল্লা শুধু একটি আঞ্চলিক শহর নয়; বরং দেশের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি ও পর্যটন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কুমিল্লার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন— একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরজীবন— বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।