সরকারি অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে প্রসেস মিল পরিবেশ বিপর্যয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রশাসনিক নীরবতার অভিযোগ

মোঃ ফেরদৌস হোসেন  :
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর উপজেলার খামারগ্রাম (করিতলা) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করেই পরিচালিত হচ্ছে একাধিক প্রসেস মিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে মেসার্স বিসমিল্লাহ মার্চরাইজিং মিলস্ কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র, শিল্প লাইসেন্স কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, মিলটির প্রোপ্রাইটর মোঃ সেনা, মোঃ মেহেদী হাসান ও মোঃ আজাদ আলী—এই তিন ব্যক্তি যৌথভাবে দীর্ঘ চার বছর ধরে মিলটি পরিচালনা করে আসছেন। অথচ এতদিনেও মিলটির বৈধ কাগজপত্র বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মিল মালিকরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ান যে তাদের কোনো সরকারি কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে প্রোপ্রাইটর মোঃ সেনা বলেন, আমাদের কোনো দপ্তরের কাগজ লাগে না। সব জায়গায় টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই আমরা মিল চালাই।
এই বক্তব্য এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের পাহাড়, নেই কার্যকর ব্যবস্থা
এলাকাবাসী জানান, গত তিন বছর ধরে তারা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসছেন। তবে প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজন এসে মিল মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে ফিরে যান বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিতভাবে মিল মালিকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিচ্ছেন। ফলে একের পর এক অভিযোগের পরও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে ভয়াবহ প্রভাব
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব প্রসেস মিলের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি আশপাশের জমি ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার টিউবওয়েলের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। অনেক টিউবওয়েলের পানি এখন দুর্গন্ধযুক্ত ও পান অনুপযোগী।
স্থানীয়রা আরও জানান, দূষণের কারণে এলাকায় নানা ধরনের রোগবালাই বেড়ে গেছে। আশঙ্কাজনকভাবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্মহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। নদী ও আশপাশের জলাশয়ে মাছ ধরা বা কৃষিকাজ করাও দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।
হতাশ এলাকাবাসী
সুমন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অভিযোগ দিতে দিতে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিল মালিকরা টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করে নেয়। আমরা গরিব মানুষ—আমাদের দুঃখ কেউ দেখে না।
প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—সিরাজগঞ্জ জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও এত বড় একটি অবৈধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর কীভাবে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধভাবে পরিচালিত এসব প্রসেস মিল বন্ধ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *