আবদুল আজিজ:
“সমৃদ্ধ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাই”— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, “সমৃদ্ধশালী সাতকানিয়া-লোহাগাড়া গড়তে আমি আপনাদের দোয়া, সহযোগিতা ও মূল্যবান ভোট চাই। আপনারা আমাকে দুইবার এমপি নির্বাচিত করেছিলেন। জনগণের কাছে দেওয়া কোনো ওয়াদা আমি খেলাপ করিনি। প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।”
তিনি বলেন, “সরকার থেকে যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম, তার প্রতিটি টাকার হিসাব আমি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করেছি। কোনো সংসদ সদস্য আজ পর্যন্ত এমন স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেননি।”
মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের এলাকায় আসতে দেওয়া হয়নি। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন, অনেককে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে যাইনি। আমরা প্রতিশোধে নয়, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ। যেখানে মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে, কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে এবং নারীরা সম্মানের সঙ্গে চলতে পারবে। আগামী দিনে সাতকানিয়া-লোহাগড়াকে একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আপনাদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছি।”
তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা হচ্ছে ন্যায়, সততা ও ইনসাফের প্রতীক। উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খাঁন, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নলুয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, সাতকানিয়া জামায়াতের সমাজসেবা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আইয়ুব আলী, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সাবেক সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সেক্রেটারি আবুল বশর সাদেক হোসাইন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, জমির উদ্দিন ও নুরুল কবির।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, মাওলানা আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।