এন আলম রাসেল চৌধুরী:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় ডাকাতদের ধাওয়া করতে গিয়ে নৌকা ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার কুমিরা এলাকার ‘কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড’ সংলগ্ন সন্দ্বীপ চ্যানেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন— গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা আবদুল খালেক রতন ও সাইফুল ইসলাম।
ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে ওই কারখানায় একটি জাহাজ আসার কথা ছিল। এ কারণে শ্রমিকরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ২০–২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ইয়ার্ডের দিকে অগ্রসর হয়। ডাকাতদের ঠেকাতে কারখানার চারজন শ্রমিক একটি ছোট নৌকা নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন।
ধাওয়া করার একপর্যায়ে উপকূল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শ্রমিকদের নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে চার শ্রমিকই সাগরে পড়ে যান। দুজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও রতন ও সাইফুল নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে সকালে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে পার্শ্ববর্তী অন্য একটি ইয়ার্ডের সামনে থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন জানান, “ডাকাত দলটিকে প্রতিহত করতে গিয়ে আমাদের শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। গত বছরও ডাকাতরা আমাদের ইয়ার্ড থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিল। প্রায় রাতেই এখানে ডাকাত দল হানা দেয়।”
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসপি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ আমাদের ডাকাতির চেষ্টার বিষয়টি জানিয়েছে। সকালে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে বলে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় এবং শ্রমিকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।