মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
নেত্রকোনা জেলা সদর উপজেলার মদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সেকান্দর বাহিনীর লাগাতার হুমকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাড়িছাড়া হয়েছেন প্রবাসীর স্ত্রী মোছাঃ সাজিদা আক্তার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

ভুক্তভোগী মোছাঃ সাজিদা আক্তার একই গ্রামের মোঃ বাবুল মিয়ার কন্যা এবং প্রবাসী মোঃ শামিম মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে সেকান্দর বাহিনী সাজিদার বাড়িতে প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে তাকে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একই গ্রামের মৃত আব্দুল হাজীর ছেলে মোঃ সেকান্দর আলী, রুকু মিয়াসহ তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, সাজিদার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা প্রবাসে অবস্থান করায় সেই সুযোগে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে গুরুতর আহত হন মোছাঃ সাজিদা আক্তার।
ঘটনার পর সাজিদা আক্তার বাদী হয়ে বিজ্ঞ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) ট্রাইব্যুনাল, নেত্রকোনা-তে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোঃ সেকান্দর আলীসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়।
তবে মামলার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। মামলার আসামিরা আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় বাড়িতে এসে বাদীকে হত্যার হুমকি, গুম ও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য ভুক্তভোগী জানতে পারেন। প্রাণরক্ষার তাগিদে বর্তমানে তিনি পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনার জেরে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, উল্লিখিত তারিখে সেকান্দর বাহিনী পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।