স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন আলামত ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও সকলকে আহ্বান জানান যে, ফ্যাসিবাদী, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের কোনো রাজনৈতিক দলে আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
এদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল করা হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মূল দুই অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর ঘটনার পরপরই ঢাকা থেকে সিএনজি যোগে আমিনবাজারে গিয়েছিলেন। এরপর তারা মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেট কারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে থাকতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত ফয়সালের পরিবার, স্ত্রী, শ্যালক, প্রেমিকা এবং পলায়নে সহায়তা করা ব্যক্তি নুরুজ্জামান ইতিমধ্যেই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া, ফয়সাল ও আলমগীরকে পরিবহনকারী তিনজন গাড়িচালক এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির অটোচালকও সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এই তথ্যগুলো তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ধাপ এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর আদালত প্রক্রিয়া অনুসারে বিচারের পথ সুগম হবে এবং দেশজুড়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।