স্বাধীন স্পোর্টস ডেস্ক:
আসন্ন নভেম্বর মাসে ঘরের মাঠে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এর মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে, আরেকটি মর্যাদার লড়াই ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। তবে মাঠে বল গড়ানোর আগেই টিকিট বিক্রিতে তৈরি হয়েছে এক অভিনব ইতিহাস।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর মাত্র ৬ মিনিটেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে! অথচ নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের টিকিট বিক্রিতে ২৬ ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৫ হাজারটি।
এমন উন্মাদনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। তিনি বলেন, “সাধারণ গ্যালারির সব টিকিট ৬ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতারা এখনো পেমেন্ট করছেন। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি টিকিটের অর্থ পরিশোধও সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রেড বক্স ও হসপিটালিটি বক্সের কিছু টিকিট অবশিষ্ট আছে।”
আজ সোমবার দুপুর ২টা থেকে অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম Quicket–এর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটে হুমড়ি খেয়ে পড়েন হাজারো ফুটবলপ্রেমী। তীব্র চাহিদার কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেলে, Quicket কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইটে “SOLD OUT” লিখে ঘোষণা দেয় টিকিট শেষ হয়ে গেছে।
ম্যাচটির জন্য টিকিট ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিক্রি করা হয়— সাধারণ গ্যালারি ৫০০ টাকা, ক্লাব হাউস–২ ও ভিআইপি বক্স–৩ এর দাম ৩,০০০ টাকা, ভিআইপি বক্স–২ এর ৪,০০০ টাকা, ক্লাব হাউস–১ এর ৫,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা দামে বিক্রি হয় রেড বক্সের টিকিট। এই দাম সত্ত্বেও টিকিটের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই টিকিট না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো—১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি কোনো যোগ্যতা নির্ধারণী ম্যাচ নয়। কারণ, দুটি দলই ইতিমধ্যে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছে। তবুও দুই প্রতিবেশী দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মর্যাদার লড়াই ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে।
এ বিষয়ে গোলাম গাউস আরও বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সব সময়ই অন্যরকম আবেগের। এখানে শুধু জয়-পরাজয় নয়, রয়েছে সম্মানের প্রশ্নও। দর্শকরা সেটা বুঝতে পারেন বলেই এমন আগ্রহ।”
বাছাইপর্বের ম্যাচটির আগে ১৩ নভেম্বর একই মাঠে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীসহ জাতীয় দলের ফুটবলাররা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাফুফে আশা করছে, বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিন পর এমন উচ্ছ্বাস মাঠে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। যদিও এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন এবার ভেঙে গেছে, তবে ভারত-বাংলাদেশের এই দ্বৈরথই ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
দর্শকদের আশা—১৮ নভেম্বরের রাতটি হোক লাল-সবুজের গর্জনের উৎসব।