স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
নৈতিকতা, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে একটি বাসযোগ্য, প্রাণবন্ত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনরা। একই সঙ্গে আগামীর নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের নির্ভীক ভূমিকা, পেশাগত নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারা। বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ট্রাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “আগামীর বাংলাদেশ, প্লানের বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার মঞ্চে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট কে. এম. কামরুজ্জামান নান্নু, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটি। তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কলম ও ক্যামেরা যেন কোনো চাপ বা ভয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়। রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে হবে, যদিও সেই পথে নানা বাধা ও ঝুঁকি রয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, প্রত্যাশার বাংলাদেশ, তার বক্তব্যে বলেন, “নৈতিকতা ও মানবিকতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। একটি প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন অপরিহার্য।” তিনি বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক সূচকে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের নৈতিক মান, মানবিক আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধই একটি রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করে তোলে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনন্য।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক নজরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব), গাজীপুর জেলা পরিষদ, বলেন, “সাংবাদিকতা আজ আর শুধু তথ্য পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব ও আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।” তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের লেখা ও অনুসন্ধান সমাজে পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে—এ কথা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন আকাশ, প্রকাশক ও সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামীর বাংলাদেশ প্রত্যাশিত রূপ পাবে না।” তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জীবন নিউজ ২৪ ডট কম-এর সম্পাদক মো. জীবন খান, দেশ টিভির সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন মতিউর রহমান জনি, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপি, দৈনিক ঢাকার ক্রাইম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক আবু সাঈদ মৃধা, ইসলাম উদ্দিন তালুকদার, মোহাম্মদ সোহেল রানা, সাংবাদিক মোঃ আনজার শাহ, সাংবাদিক মোঃ পানির, আবুল বাসার মজুমদার, সাংবাদিক খুসরু মৃধা এবং মোস্তফাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট সুধীজনরা। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বক্তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকতার ধরন বদলে যাচ্ছে—এমন বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ভুল তথ্য, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে সমাজকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে।
বক্তারা আরও বলেন, নানা চাপ, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সাহসী ও নির্ভীক ভূমিকা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। ইতিহাস প্রমাণ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আলোচনা সভা শেষে বক্তারা সাংবাদিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়:
“ভয় নয়, বিবেককে সামনে রেখে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”