মোহাম্মদ সোহেল, চট্টগ্রাম:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে মইজ্জারটেক গোলচক্কর এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিন হাজারো সিএনজি অটোরিকশা নাম্বারপ্লেট ও রোড পারমিট ছাড়াই চলছে। অথচ ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বক্স—তবুও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
টোকেন ছাড়া গাড়ি চালানো ‘অপরাধ’, অথচ চলছে টোকেন বাণিজ্য
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাফিক বক্সের পাশেই শত শত সিএনজি যাত্রী তুলছে। একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন,
“এখানে গাড়ি চালাতে হলে মাসে ৬০০ টাকা টোকেনের নামে দিতে হয়। আমাদের লাইসেন্স, রোড পারমিট, রেজিস্ট্রেশন সবই ঠিক আছে—কিন্তু টোকেন না থাকলে পুলিশ মামলা দেয়।”
আরেকজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“মাসে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টোকেন থাকলে পুলিশ কিছু বলে না, টোকেন না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা।”
চালকদের দাবি, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ট্রাফিক পুলিশের এক শ্রেণির অসাধু সদস্যদের যোগসাজশে এই টোকেন বাণিজ্য চলছে। মইজ্জারটেক এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অঘোষিত ‘টোল অফিস’। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা থেকে।
পুলিশের ‘জানিনা’ বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক টিআই বলেন,
“আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।”
কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যেখানে প্রতিদিন শত শত সিএনজি পুলিশের সামনেই টোকেন নিচ্ছে, সেখানে কি সত্যিই কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না?”
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিন চাকার দৌরাত্ম্য
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—মহাসড়কে তিন চাকার সিএনজি অটোরিকশা চলতে পারবে না। কিন্তু কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে চলছে এসব যানবাহন। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা, তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট এবং জনদুর্ভোগ।
নাগরিক সমাজের দাবি—অবৈধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে,
“অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।”
তারা আরও বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সিন্ডিকেটের অবসান সম্ভব নয়।”
উপসংহার
কর্ণফুলী নতুন ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে এই ‘টোকেন সিন্ডিকেট’ এখন প্রকাশ্য বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের আন্তরিকতা ও অভিযান জোরদার না হলে, সড়ক নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ দুটোই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।