মোঃ জাহাঙ্গীর আলম:
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার টেপড়া বাজার থেকে সরকার অনুমোদিত সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে মেসার্স সাহা এন্টারপ্রাইজের ডিলার রতন সাহার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর বরাদ্দকৃত সার ঘিওর উপজেলায় অজ্ঞাত খুচরা ডিলার নিকট সার পাচার করছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে ২ নভেম্বর রবিবার দিনগত রাত আনুমানিক ৭টার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত এক ভ্যানচালক ওই সময় শিবালয়ের টেপড়া এলাকা থেকে ঘিওরমুখী পথে ১০ বস্তা ডিএবি সার পরিবহন করছিলেন। ঘিওর উপজেলার ফুলহার রাস্তায় পথিমধ্যে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভ্যানটি চালকে বড়টিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিকটে পৌঁছা দেয় ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে টেপড়া এলাকায় থেকে সার আনার সততা পান। তবে ভ্যানচালকের কাছে কোনো বৈধ রসিদ বা প্রাপ্তির প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি।
উলাইল স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলার রতন সাহা টেপড়া বাজারে দোকান পরিচালনা করলেও ঘিওর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সার বিক্রি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ফলে শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের কৃষকেরা ঢাকা আরিচা মহাসড়কের রাস্তা পাড় হয়ে নিয়মিত সারের সেবার সংকটে পড়েন।
এবিষয়ে, মেসার্স সাহা এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী ডিলার রতন সাহা, সার বিক্রির কথা দায় এড়িয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উলাইল ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন,
> “রতন সাহার দোকান রাস্তার অপর পাশে ঘিওর উপজেলার দিকে হওয়ায় আমাদের ইউনিয়নের কৃষকেরা সার পেতে ভোগান্তিতে পড়েন। যদি ডিলার পয়েন্ট টেপড়া বাজারের উলাইল ইউনিয়ন মুখী পথের পূর্ব পাশে হতো, তবে কৃষকেরা সহজে সার নিতে পারত।”
এ বিষয়ে টেপড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুপম কুমার মৌলিক বলেন, ১০ বস্তা ডিএবি সার পাচারের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অন্যদিকে শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।