বিএডিসির সেচ ম্যানেজার অপ্রতিরোধ্য মোঃ সুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মনজুরুল ইসলাম:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের চারটি গ্রামের কৃষক আজ দিশেহারা বিএডিসি সেচ প্রকল্পের আওতাধীন নলকূপের অপারেটর এবং স্বঘোষিত ম্যানেজার মোঃ সুলাল মিয়ার কারণে। গ্রামগুলো হলো—ভাটিপাড়া, মাইজপাড়া, কোনাডাঙ্গর ও খালপাড়।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসির আওতাধীন সিংরইল ভাটিপাড়া গ্রামের গভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে তাদের জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়—স্বঘোষিত ম্যানেজার মোঃ সুলাল মিয়া সময়মতো পানি দেন না। মৌসুম শুরু হলে তিনি নানা তালবাহানা করে পাম্প চালু করেন না। অতিরিক্ত অর্থ দিলে তবেই পাম্প চালু করেন।

কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, বিএডিসি কর্তৃক নির্ধারিত টাকার চেয়েও অপারেটর ও ম্যানেজার সুলাল মিয়া শতাংশপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা আদায় করেন। তাদের ভাষায়, “আমাদের কষ্টের টাকা বেশি নিচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। কার কাছে বলবো?”

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সুলাল মিয়ার বড় ভাই নান্দাইল উপজেলার বিআরডিবির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়া। ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে সুলাল মিয়া ইচ্ছেমতো পাম্প চালু বা বন্ধ করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করেন এবং হুমকি দেন।

কৃষক মোঃ সালাম, কাসম আলী, জসিম উদ্দিন, আঃ রসুল, জাকির, কামাল, প্রিয়ার বক্সসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, “সেচের কাজে অনভিজ্ঞ এই অপারেটর ও ম্যানেজার শুধু ভাইয়ের ক্ষমতার জোরে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ কারণেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে সেচ কমিটির নিয়ম অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতিবাজ অপারেটর মোঃ সুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিএডিসির সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মোঃ সুলাল মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *