কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকার চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়ায় আলোচিত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে র্যাব দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে এখন পর্যন্ত এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার রাতে চালিতাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালো সোহেল ও মো. বাবুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন, তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ দুজনকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।
এর আগে একই দিনে সকালে র্যাব চান্দগাঁও থানার হাজিরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলাউদ্দিন ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে। র্যাবের গ্রেপ্তার করা ওই দুইজনও বর্তমানে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চালিতাতলী খোন্দকিয়া পাড়ায় চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। গুলিবর্ষণে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ আরও দুইজন আহত হন।
এ ঘটনায় নিহত সরোয়ারের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে বায়েজিদ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদ, মো. রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন, বোরহান, আলাউদ্দিন, মো. হেলাল ও নিজাম উদ্দিন হাবিব। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৫–১৬ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) হাসিব আজিজ সাংবাদিকদের জানান, সরোয়ারকে টার্গেট করেই এ হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরোয়ারের সঙ্গে এলাকার আধিপত্য নিয়ে কয়েকটি গ্রুপের বিরোধ চলছিল।
ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, “র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দুজন ও আমাদের হাতে গ্রেপ্তার দুজনসহ মোট চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি তারা এজাহারভুক্ত না হলেও তদন্তে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পুরনো দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয়দের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব খাটানোর বিষয়টিও এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে।