পাকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে বাংলাদেশের হার

স্বাধীন স্পোর্টস ডেস্ক: 

বাংলাদেশের হকি দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৮-২ গোলে হেরে গিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি হতাশাজনক ফল, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রত্যাশিত ছিল কারণ বাংলাদেশ এর আগে কখনো পাকিস্তানকে পরাজিত করতে পারেনি। ম্যাচটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক হকি আসর বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হলো।

প্রথম কোয়ার্টারে স্কোর ছিল ১-১। বাংলাদেশের হুজাইফা হোসেনের রিভার্স হিট গোল সমতা ফিরিয়ে আনে। তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ খেলায় ছিটকে পড়ে। পাকিস্তান দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং দ্বিতীয় কোয়ার্টারে নাদিম আহমেদ ফিল্ড গোলে দলকে এগিয়ে নেন। ২৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আফরাজ ব্যবধান বাড়ান এবং কোয়ার্টারের শেষের দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন। তৃতীয় কোয়ার্টায় আল ঘাজানফার এবং ওয়াহিদ রানা গোল করে পাকিস্তানের জয়কে আরও দৃঢ় করেন।

চতুর্থ কোয়ার্টারেও পাকিস্তান আক্রমণ অব্যাহত রাখে। শাহিদ হান্নানের ফিল্ড গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে এবং ৫৬ মিনিটে নাদিম আহমেদ নিখুঁত হিটে পাকিস্তানকে ৮ গোলের শীর্ষে নিয়ে যান। বাংলাদেশ দলের আমিরুল ইসলাম পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও, তা হারের গ্যাপ কমাতে যথেষ্ট হয়নি।

ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের রোমান সরকার মাঠে লুটিয়ে পড়েন। পাকিস্তানের হিট ঠেকাতে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান এবং রক্ত ঝরে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দলের অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু বলেন, “রোমান দলের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়। তার মাঠ ছাড়াটা খেলায় প্রভাব ফেলেছে। আমরা পেনাল্টি কর্নারগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি এবং কিছু ভুল করেছি। ফলে হারের ব্যবধান বেড়ে গেছে।”

জাতীয় দলের প্রাক্তন তারকা রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান স্পষ্ট। ছোটখাটো ভুলে ব্যবধান আরও বেড়ে গেছে। আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া উন্নয়ন করতে হবে।” সাবেক তারকারা এই ম্যাচটি সরাসরি দেখতে এসে যুবদল ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের খেলায় মনোযোগী থাকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য এই হারের শিক্ষা বড়। পাকিস্তানের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা দলের কৌশলগত উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নার এবং ডিফেন্স লাইন আরও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া, খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচে স্থায়ী ফোকাস বজায় রাখাও অপরিহার্য।

আগামী শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যদি পাকিস্তান দ্বিতীয় ম্যাচও জেতে, তবে তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার যোগ্য হবে। তৃতীয় ম্যাচ তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই গণ্য হবে। বাংলাদেশের কোচ ও খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য নতুন কৌশল এবং দলগত সমন্বয় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন আশা করছে, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলের জন্য শিক্ষণীয় হবে। অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু বলেন, “আমরা এই হারের ওপর মনোযোগ দেব এবং শিগগিরই আমাদের দুর্বল দিকগুলো ঠিক করার চেষ্টা করব। আগামী ম্যাচে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।”

ম্যাচ শেষে সংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ দলের কোচও স্বীকার করেছেন, “পাকিস্তান এই ম্যাচে আমাদের চেয়ে সবদিক থেকে এগিয়ে ছিল। তবে আমরা হাল ছাড়ব না। দ্বিতীয় ম্যাচে আমাদের খেলার মান আরও উন্নত হবে এবং খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *