এন আলম রাসেল চৌধুরী:
বিপ্লবের অগ্রসেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রামের করেরহাট এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে দলমত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে করেরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশাল বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই করেরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে শত শত মানুষ সমবেত হতে থাকেন। এরপর একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি করেরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তাদের হুঁশিয়ারি মিছিল পরবর্তী প্রতিবাদ সভায় ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, “ওসমান হাদি দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার এই আত্মত্যাগ অপার্থিব। যারা মনে করেছে হাদিকে হত্যা করে বিপ্লব স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে, তারা ভুল করছে। প্রতিটি ঘরে এখন এক একজন হাদি তৈরি হয়েছে।”
সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ এদিনের কর্মসূচিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সীমাবদ্ধতা ছিল না।
করেরহাটের স্থানীয় সাধারণ মানুষ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশ নেন। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।