রুড়ায় সরকারি বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট টিন নিয়ে টানাপোড়েন, আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

মোঃআবু ইউছুফ রাবেত

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সরকারি পৌর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতকাজ শেষে অবশিষ্ট ৭০ পিস পুরাতন টিন নিয়ে চরম বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব টিন আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কবিতা রানী পাল জানান, মেরামত শেষে অবশিষ্ট টিন সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি বাধা দেন এবং স্পষ্টভাবে জানান, টিন নিলাম ছাড়া অন্য কোনো পথে নেওয়া যাবে না।
এ ঘটনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ওই বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট ৭০ পিস টিনের মধ্যে ৩০ পিস টিন বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নিয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই টিন দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভবনের ওপর নারীদের জন্য একটি টিনশেড নামজের স্থান নির্মাণ করা হবে।”
তবে বিষয়টি জানাজানি হলে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “উপজেলায় তো একটি মসজিদ রয়েছে। কার অনুমতিতে নামাজের স্থান বা এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে?” ইউএনও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি ইলিয়াস মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সম্পদ নিয়ে এ ধরনের অস্বচ্ছতা শিক্ষা প্রশাসনের জন্য লজ্জাজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের জবাবদিহি এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় বরুড়ায় শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *