মোঃ বাদল:
ঢাকা রেশনিং-এর সাবেক এআরও নাইয়া রানুর অপকাণ্ডে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট অফিসপাড়ায়। সূত্রে জানা যায়, ঢাকা রেশনিং ডি-২ এর এরিয়া রেশনিং অফিসার (এআরও) সরকারি চাকরীর সুবাদে ব্যক্তিগত এবং পরিবারের সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন।
নাইয়া রানু তার ছোট ভাই এস এম হামিদকে ঢাকা রেশনিং বিভাগে তদারকি দায়িত্বে চাকুরীতে নিয়োগ করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে ডি-২ এলাকায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মিলব্যারেক গুদারা ঘাট এলাকায় ট্রাক সেলের অনিয়ম বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ বাদল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করলে দেখা যায় অফিস কর্তৃপক্ষ এস এম হামিদকে নৈশ প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দিয়েছেন। বড় বোন নাইয়া রানুর অদৃশ্য ক্ষমতার কারণে ছোট ভাইকে এক সপ্তাহের মধ্যে যথাযথ অবস্থানে বহাল করা হয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আইইবি রমনা, ঢাকা-এ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ওএমএস ডিলার নিয়োগের লটারি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত লটারিতে সাবেক এআরও নাইয়া রানুর স্বামী মোর্শেদ মাহমুদের ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে পুরো খাদ্য অধিদপ্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানাযায়, বিগত ২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ওএমএস ডিলার নিয়োগের আদেশ জারি হয়। উক্ত আদেশে সাবেক এআরও নাইয়া রানুর স্বামী মোর্শেদ মাহমুদের নাম রয়েছে। ডিলার মোর্শেদ মাহমুদের প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স মা বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ, নারিন্দা লেন, ঢাকা সদর ১১০০, গেন্ডারিয়া, ঢাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উক্ত ঠিকানায় এই নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।
আইন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবারের কোনো সদস্য ডিলার নিয়োগ পাবেন না। এখানে সাবেক এআরও নাইয়া রানুর যোগসাজশে তার স্বামীর নামে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।
এ ব্যাপারে জানতে সাবেক এআরও নাইয়া রানুর স্বামী মোর্শেদ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সাবেক এআরও নাইয়া রানু জানান, “আমি একটু ব্যস্ত, পরে কথা বলব,” বলে ফোন কেটে দিয়েছেন। একাধিকবার কল দেওয়ার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা রেশনিং-এর প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলমকেও একাধিকবার ফোন করা হয়, কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ঢাকা রেশনিং-এর সাবেক এআরও এবং ডিলার মোর্শেদ মাহমুদের স্ত্রী নাইয়া রানু বর্তমানে গাজীপুরে কর্মরত রয়েছেন।