ওয়াহিদ হোসেন:
ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ডেমরা রোড, ত্রিমোহনী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মাত্র দুই কাঠার জমিতে সাত তলা বিশাল একটি ভবন নির্মিত হয়েছে, যা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালীন সময়ে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতি একেবারেই উপেক্ষিত হয়েছে।
ভবনটি লিবার্টি কলেজ ও ইসলামী ব্যাংকের বিপরীত পাশে অবস্থান করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনুমোদনহীন এই ভবন নির্মাণের ফলে ন্যায্য নকশা, নিরাপদ গ্যারেজ বা সরাসরি যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে সড়কের উপর গাড়ি পার্কিং, যানবাহন চলাচল এবং পথচারীদের চলাচল প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, “মালিক মোস্তফা কোনো অনুমোদন ছাড়াই দ্রুতগতিতে ভবনটি নির্মাণ করেছেন। এমন উচ্চ ভবন যেখানে সরু সড়ক রয়েছে, সেখানে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খুবই বেশি। রাজউক এবং সিটি করপোরেশন যেন একেবারেই চোখ বন্ধ করে বসে আছে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবী দল ইতোমধ্যে বিষয়টি রাজউক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং ভবনটির অবৈধ নির্মাণ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্য একজন বাসিন্দা জানান, “এ ধরনের অপরিকল্পিত ও অবৈধ নির্মাণ শুধু জনদুর্ভোগ বাড়ায় না, এটি জনসাধারণের জীবননিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। ভবন ধ্বংস হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে, তা নিয়ন্ত্রণকারীরা বলবেন?”
৬/১-এর অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের কেন্দ্রস্থলে এ ধরনের উচ্চতাসম্পন্ন, অনুমোদনবিহীন ভবন শুধুমাত্র স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকেই বিপন্ন করছে না, এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের দূর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে।
অবৈধ নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনা ভঙ্গের এই ঘটনা সরকারের দৃষ্টিনন্দন উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে বড় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজউকের নিয়মনীতি এড়িয়ে গড়ে তুলেছেন বিপজ্জনক ভবন। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।