স্বাধীন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনাদের আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া গেছে, হামলার লক্ষ্য ছিলেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী। বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়ার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেনারেলিসিমো ফ্রান্সিসকো ডি মিরান্ডা বিমান ঘাঁটি, যা লা কার্লোতা নামে পরিচিত; কারাকাসের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ফুয়ের্তে তিউনা; এবং মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত পোর্ত লা গুয়েরা বন্দর, যা কারাকাসকে ক্যারিবীয় সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এছাড়াও, হিগুয়েরো বিমানবন্দর ও সেরো এল ভলকান টেলিকম টাওয়ার হামলার লক্ষ্য ছিল।
মার্কিন সেনাদের হামলার পরই প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই কারাকাসের রাস্তাঘাট প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। সাধারণ সময়ে যেখানে বাজার, শপিংমল ও ব্যস্ত এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা যেত, এখন সেখানে শান্ত ও শুনশান অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কিছু কিছু ফার্মেসি ও সুপারশপ খোলা আছে, যেখানে মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য ছুটছে।
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্ক ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে নাগরিকরা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় মাদুরোর মুক্তির দাবিতে সমর্থকরা বিক্ষোভ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মার্কিন প্রশাসন এখনো ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিবৃতি প্রদান করেনি, তবে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি যতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, দেশটিতে শান্তি ফিরে আসার ততটাই সম্ভাবনা বাড়বে।