পূর্বধলায় তিন মহিলা মামলা দিয়ে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করছে

নাছিমা খাতুন সুলতানা: 

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মৌদাম গ্রামে স্থানীয় তিন মহিলার দাপট ও মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত জয়মত আলীর মেয়ে মোছাঃ শিরিন আক্তার, কাঞ্চনী আক্তার এবং নাজমা আক্তার দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একের পর এক মামলা দিয়ে গ্রামের মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই তিন মহিলা তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে মানুষের জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নাজমা আক্তার উপজেলা পরিষদের মহিলা মেম্বার থাকাকালীন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সহকর্মী ও গ্রামের লোকজনকে সাথে নিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

একই সময়ে জানা গেছে, মৃত আব্বাস আলীর ছেলে হাফেজ মোঃ আব্দুল খালেক বেগের নামে তিন মহিলাসহ তাদের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের হয়েছে তারা কেউই কোনো অপরাধ করেননি। বরং, প্রতিবাদ করার কারণে তাদের উপর ভিত্তিহীন মামলা চাপানো হচ্ছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ বলেন, “মামলার ভয়ে আমরা শান্তি ও নিরাপদে থাকতেও পারি না। সালিশের মাধ্যমে বিষয় সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিন মহিলা মামলার মাধ্যমে আবারও সমস্যার সৃষ্টি করছেন। তারা প্রায় ২০ কাটা জমি দীর্ঘ ১২–১৩ বছর ধরে দখল করে ফসল কেটে নিয়ে গেছেন।”

ঢাকা থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাফেজ মোঃ আব্দুল খালেক বেগ বলেন, “আমাদের ফসল, জমি ও অধিকার রক্ষা করতে আইনের সহায়তা চাই। গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন মিথ্যা মামলা প্রতিহত করা যায়।”

এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন যে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার পুনরায় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ এবং হাফেজ পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের সদিচ্ছা ও সহায়তা কামনা করছেন, যাতে মিথ্যা মামলা ও জমি দখলের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তারা আশা করছেন, আইন এবং প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপে গ্রামের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *