স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিআইডি সদর দপ্তরে ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময়সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ। উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে ছড়ানো গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। অতীতের নির্বাচনে সাধারণত ভোটকেন্দ্রে মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ থাকলেও এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুজন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবেন। বিশেষ গুরুত্বপ্রাপ্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ছয়জন, যার মধ্যে তিনজন পুলিশ ও তিনজন আনসার। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্যও থাকবে, যাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং চারজন নারী আনসার থাকবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি এবং গার্লস গাইডের সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর করে তুলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে রেকর্ড হবে।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সিআইডির মোট জনবল এর ৯০ শতাংশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে কাজ করবে। এছাড়া সাইবার ইউনিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজর রাখবে যাতে ভোটপ্রক্রিয়া, তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এমন ব্যবস্থা রাখা হবে যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা যাবে না। জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবে এবং ভোটের ফলাফল অবাধ ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ পাবে। তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সিআইডি, আনসার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময়সভার সময় কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটপ্রক্রিয়া পুরোপুরি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন হওয়া সকল বাহিনী যেন জনগণকে কোনোভাবে আতঙ্কিত না করে বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি ও সাঁড়াশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে যে কোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে নজরদারি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, সিআইডি সাইবার ইউনিট প্রতিটি অনলাইন তথ্যের সত্যতা যাচাই করবে এবং কোনো প্রকার গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতিরোধ করবে।
তিনি আশ্বাস দেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনকালীন সব বাহিনী পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবে।