মাথাল মার্কায় ভোট চাইলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহর-বন্দরবাসীর জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে গণসংযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত মাথাল প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮ নম্বর (নাসিক) ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত নিতাইগঞ্জের নলুয়া রোড ও শহীদ নগর এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভা করেন।

গণসংযোগকালে তারিকুল ইসলাম সুজন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া লক্ষ্য করা যায়।

গণসংযোগে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ বিপ্লব খান, সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন আলম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির জেলা আহ্বায়ক আব্দুল আল মামুন, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন মারুফ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি সৃজয় সাহা, রনি শেখসহ গণসংহতি আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

গণসংযোগ শেষে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন,
“নির্বাচিত হলে আমার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে নারায়ণগঞ্জের সকল নাগরিকের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। আজ নারায়ণগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব অবস্থা খুবই ভয়াবহ। জ্বর-কাশি ছাড়া অন্য কোনো রোগের কার্যকর চিকিৎসা সেখানে পাওয়া যায় না।”

তিনি বলেন,
“উন্নত চিকিৎসার আশায় চাষাঢ়া থেকে ঢাকা যাওয়ার পথেই অনেক মানুষ প্রাণ হারান। এই মৃত্যুর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই, নেই কোনো দায়বদ্ধতা। শুধু যাদের আপনজন হারিয়েছে, তারাই জানে এই কষ্টের গভীরতা। অথচ নারায়ণগঞ্জেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।”

তারিকুল ইসলাম সুজন আরও বলেন,
“আমরা নারায়ণগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে চাই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেরা চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে গরিব ও মেহনতি মানুষও ভালো চিকিৎসা পায়। সামান্য চিকিৎসার জন্য যেন কাউকে ঢাকামুখী হতে না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি নগর নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন,
“নারায়ণগঞ্জ শহর-বন্দরের আরেকটি বড় সমস্যা হলো নিরাপত্তাহীনতা। চুরি-ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং কিশোরগ্যাং এখন নিত্যদিনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক হিসেবে মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন,
“আমরা এমন একটি শহর ও বন্দর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। সুস্থ জীবন, নিরাপদ পরিবেশ ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”

বক্তব্যের শেষাংশে তারিকুল ইসলাম সুজন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিকল্পিত শহর-বন্দর চান, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে মাথাল মার্কায় ভোট দিন। পরিবর্তনের জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত নিন।”

গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের নানা সমস্যা—চিকিৎসা সংকট, মাদক, কিশোরগ্যাং ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন এবং এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *