মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাগেরহাট–১ সংসদীয় আসনে ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ও উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। বাগেরহাট–১ আসনটি খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বৃহত্তর খুলনা জেলা ভেঙে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা গঠিত হয়। ওই সময় সাবেক খুলনা–১ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে বাগেরহাট–১ আসনটি সৃষ্টি করা হয়, যা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জেলার উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
বর্তমানে এই আসনে বাগেরহাট জেলা বিএনপির এক বহিষ্কৃত নেতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নেতা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। সম্প্রতি জেলা বিএনপির কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অনলাইনে আলোচনা চলছে যে, বর্তমানে তাকে চরমোনাই পীর সাহেবের অনুসারী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে করা বিভিন্ন পোস্টে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থন পাওয়ার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, তার সাবেক রাজনৈতিক দল বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন যে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিএনপির সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কেবল দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ খান মশিউর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম এ এইচ সেলিম ‘ঘোড়া’ প্রতীক এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম এফসিএ ‘ঈগল’ প্রতীক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ‘লাঙ্গল’ এবং মুসলিম লীগের প্রার্থী ‘হারিকেন’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন।
স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মতে, মূলত ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই; তারা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে এলাকায় একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করলেও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।