পূর্বধলায় মামলা মীমাংসার পর পুনরায় জমি দখলের অভিযোগ

 মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান: 

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় মামলা মীমাংসার এক মাস না যেতেই পুনরায় জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাদী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের নাটের কোনা গ্রামের মঞ্জুরুল হকের স্ত্রী মোছা. রেজিয়া খাতুন গত ৯ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ আমলি আদালত, পূর্বধলা, নেত্রকোনায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম খন্দকার মিনুর ছেলে হাসিবুল ইসলাম খন্দকার শান্তসহ মোট ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলাটি দরখাস্ত নং—২১ হিসেবে গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালত।

বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে পূর্বধলা থানায় প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে পূর্বধলা থানায় মামলা নং—১৯ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে থানার এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালেই আসামি পক্ষ বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে এলাকার বিভিন্ন মাতব্বর ও প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও গত ৩ এপ্রিল ২০২৫ ইং, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে পূর্বের বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে ওই বৈঠকে কোনো মীমাংসা হয়নি।

সালিশ বৈঠক শেষে মঞ্জুরুল হক বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ হাসিবুল ইসলাম খন্দকার শান্ত ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মঞ্জুরুল হকের স্ত্রী মোছা. রেজিয়া খাতুন আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি মীমাংসার প্রায় এক মাস পর একই আসামি পক্ষ পুনরায় জোরপূর্বক ও বেআইনিভাবে মঞ্জুরুল হক ও আব্দুল মমিন গংদের পৈতৃক ও সাফ—কবলা জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় এলাকায় ভীতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে পূর্বের মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত মঞ্জুরুল হকের ছেলে এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। তার শারীরিক অবস্থার কারণে পরিবারটি চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা পরিবারটিকে আরও অসহায় করে তুলেছে।

এ ঘটনায় বাদী ও ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান এবং আদালতের রায় ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপই পারে এলাকায় চলমান উত্তেজনা নিরসন করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *